প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, তিন সন্তানসহ পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার লাশ সন্দেহে পদ্মা নদী থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ৩টায় এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার শরীফ উদ্দিন এ তথ্য জানান। তবে ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ পরীক্ষার আগে লাশের পরিচয় পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, একটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে, পদ্মা সেতুর ওপর একজন লোক কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর ব্যাগসহ নদীতে ঝাঁপ দেন। তার সঙ্গে একটি ব্যাগ ও জামাকাপড় ছিল। পদ্মা সেতুর ওপর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওই ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে একজন স্থানীয় ব্যক্তি সেতুর ওপর থেকে ফোরকানের একটি মোবাইল ফোন কুড়িয়ে পান, সেটিও জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দের পরই বুধবার রাতে নদীতে অভিযান চালিয়ে ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুপার বলেন, তবে তিনি ফোরকান কিনা নিশ্চিত না। ডিএনএ টেস্টের পর লাশের পরিচয় সঠিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গত শুক্রবার রাতে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পলাতক ফোরকানই সেতু থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ওই রাতে স্ত্রী শারমিন, তার তিন কন্যা মীম (১৫), মারিয়া (৮) ও ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়ার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে। তিনি বছরখানেক আগে রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ভাড়া উঠেছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘরে গিয়ে আবিষ্কার করেন মর্মান্তিক দৃশ্য—তিন শিশুকন্যার গলাকাটা মরদেহ মেঝেতে পাশাপাশি পড়ে আছে, শারমিনের লাশ জানালার গ্রিলে বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং রসুল মিয়ার রক্তাক্ত দেহ বিছানার ওপর। তাৎক্ষণিকভাবে ওই বাড়ি থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা কয়েকটি প্রিন্ট করা কাগজে ফোরকান তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পরকীয়ার অভিযোগ এনেছিলেন। পুলিশের ধারণা, এই পারিবারিক কলহই পাঁচ খুনের মতো চরম পরিণতির জন্ম দেয়। ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেই লাশটির প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মন্তব্য করুন