প্রকাশিত: ১২ মে, ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশে মোটরসাইকেল ও বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের নতুন করের আওতায় আনতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিসিভেদে মোটরসাইকেলের ওপর দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব থাকছে। একইসঙ্গে ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং প্রাইভেটকার, জিপ ও সিএনজি অটোরিকশার মতো যানবাহনেও এই কর চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজস্ব বোর্ড।
প্রস্তাবিত করকাঠামো অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল অগ্রিম আয়করের বাইরে থাকবে। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত বাইকের জন্য বার্ষিক কর ধরা হয়েছে দুই হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন মোটরসাইকেলের জন্য দিতে হবে বছরে ১০ হাজার টাকা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৮ লাখ ৭১ হাজার।
এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক হাদিউজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, সড়ক আইনে মোটরসাইকেল বৈধ বাহন। তাই ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্য যানবাহনের মতো এই বাহনের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপ যুক্তিযুক্ত, তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয়। এতে করজালের কলেবর বাড়বে। যারা কর দিচ্ছে, তাদের ওপর চাপ কমবে।
তবে ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশায় অগ্রিম আয়কর আরোপের ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কৌশলী হওয়া উচিত। কেননা এরই মধ্যে রাজধানীর সড়কে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত এসব স্বল্পগতির বাহন চলাচল করছে। এগুলোর কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত যানজট ও দুর্ঘটনা ঘটছে। যার আর্থিক ক্ষতি হয়তো অগ্রিম আয়কর আরোপে সরকার যে রাজস্ব আদায় করবে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি হবে। এ অবস্থায় অগ্রিম আয়কর আরোপের আগে অটোরিকশার সংখ্যা ও সড়কের সঙ্গে মানানসই বাহন নির্ধারণ জরুরি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে মোটরসাইকেল চালকদের শুধু এককালীন নিবন্ধন ফি ও প্রতি দুই বছর পরপর রোড ট্যাক্স দিতে হয়, কোনো অগ্রিম আয়কর নেই। ১২৫ সিসি পর্যন্ত বাইকের নিবন্ধন ফি ৯ হাজার ২৯১ টাকা এবং পরবর্তী ৮ বছরে চার কিস্তিতে মোট চার হাজার ৬০০ টাকা রোড ট্যাক্স পরিশোধ করতে হয়। অন্যদিকে ১২৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন বাইকের নিবন্ধন ফি ১১ হাজার ৭৬৪ টাকা এবং চার কিস্তিতে নয় হাজার ২০০ টাকা রোড ট্যাক্স দিতে হয়। বিদ্যমান আইনে গাড়ির মালিকদের মতোই ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেল আরোহীরাও অগ্রিম কর রিটার্নের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগ পাবেন।
মন্তব্য করুন