আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৭:৫৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রদেশে ভোজশালা কামাল মাওলানা মসজিদ কমপ্লেক্সকে মন্দির ঘোষণা

ভারতের মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় অবস্থিত বহুল বিতর্কিত ভোজশালা–কামাল মাওলানা মসজিদ কমপ্লেক্সের প্রধান অংশকে সরস্বতী দেবীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করে যুগান্তকারী রায় দিয়েছে রাজ্যটির হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক আওয়াস্থির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেয়। এর ফলে ২০০৩ সালে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ (এএসআই) কর্তৃক জারি করা ওই নির্দেশ বাতিল হলো, যে নির্দেশের আওতায় মুসলিম সম্প্রদায় প্রতি শুক্রবার সেখানে জুমার নামাজ আদায়ের অধিকার পেতেন।

আদালত তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করে জানায়, সংশ্লিষ্ট স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এএসআইয়ের হাতেই থাকবে। কিন্তু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের একচ্ছত্র অধিকার এখন থেকে হিন্দু পক্ষ ভোগ করবে। একই রায়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক স্থানে মসজিদ নির্মাণের স্বার্থে রাজ্য সরকারের কাছে জমি চাওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বেঞ্চ তার রায়ে উল্লেখ করেন, ঐতিহাসিক দলিল ও প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, ‘এখানে হিন্দু উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনো সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়নি। ঐতিহাসিক দলিল ও সাহিত্য থেকে প্রতীয়মান হয়, বিতর্কিত স্থানটি পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র ‘ভোজশালা’ ছিল।’ হিন্দু পক্ষের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল জ্ঞানপিপাসু রাজা ভোজ কর্তৃক নির্মিত সরস্বতীর মন্দির ও বিদ্যাকেন্দ্র। অন্যদিকে, মুসলিম পক্ষের অবস্থান ছিল এটি শত শত বছর ধরে কামাল মাওলানা মসজিদ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

নতুন এই রায়ে আদালত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়। বর্তমানে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত সরস্বতী দেবীর একটি প্রাচীন মূর্তি ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। বেঞ্চ জানায়, ‘পরমার রাজবংশের রাজা ভোজ ১০১০ থেকে ১০৫৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ওই মূর্তিটি স্থাপন করেছিলেন, যখন ভোজশালা ছিল একটি বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্র।’ এ প্রসঙ্গে রায়ে আরও বলা হয়, আবেদনকারীরা বহুবার এই মূর্তি ফিরিয়ে এনে ভোজশালা কমপ্লেক্সে পুনঃস্থাপনের আবেদন জানিয়েছেন, এবং সরকার চাইলে বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানিতে গত ১২ মে রায় সংরক্ষিত করেন আদালত। এর আগে ২০০৩ সালের নিয়ম অনুযায়ী মঙ্গলবার হিন্দু ও শুক্রবার মুসলিমদের জন্য প্রার্থনার ব্যবস্থা বহাল ছিল। হিন্দু পক্ষ একক উপাসনার দাবিতে সেই নির্দেশনাকে চ্যালেঞ্জ করলে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট পুরো কমপ্লেক্সে বৈজ্ঞানিক জরিপের নির্দেশ দেয়। ২২ মার্চ শুরু হওয়া সেই জরিপ ৯৮ দিন ধরে চলে। দুই হাজারের বেশি পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এএসআই দাবি করে, বর্তমান স্থাপনার আগে সেখানে পরমার আমলের বিশাল স্থাপত্য ছিল এবং বর্তমান কাঠামোয় মন্দিরের উপাদান পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে। হিন্দু পক্ষ জরিপে প্রাপ্ত মুদ্রা, ভাস্কর্য ও শিলালিপিকে মন্দিরের পক্ষে অকাট্য প্রমাণ হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও মুসলিম পক্ষ পুরো প্রতিবেদনটিকেই ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিহিত করে আসছিল। এই রায়ের ফলে দেশটির ধর্মীয় ও প্রত্নতাত্ত্বিক বিতর্কের অঙ্গনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপিত হলো।

মন্তব্য করুন