প্রকাশিত: ৩৪ মিনিট আগে, ০৪:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বিশ্বজুড়ে নিজেদের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে নির্ধারিত ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে কার্যকর করা কঠোর অভিবাসননীতির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে থাকা কূটনৈতিক মিশনগুলোতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে পুনঃনির্ধারিত এই কার্যক্রম কতদিন চলবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা প্রকাশ করা হয়নি।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন, তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করতে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। কনস্যুলার কর্মকর্তারা যাতে ভিসা আবেদনকারীদের আরও নিখুঁত ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এর আগে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম 'ফিন্যান্সিয়াল টাইমস' সাক্ষাৎকার বাতিলের বিষয়টি সামনে আনে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীরা ই-মেইলের মাধ্যমে সময়সূচি পুনঃনির্ধারণের নোটিশ পেয়েছেন এবং নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলে তাদের অবহিত করা হয়েছে।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী তৎপরতা শুরু করেছে। এর আওতায় ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং রাজনৈতিক মতামত কিংবা ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আবেদন প্রত্যাখ্যান করার ঘটনা বাড়ছে। পাশাপাশি এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা এবং পর্যটন বা ব্যবসার ভিসায় এসে আশ্রয়ের আবেদন করা প্রায় দুই লাখ বিদেশির ভিসা বাতিলের পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলছে, এই নীতিগুলো বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুসংহত করতেই এসব আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন