আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ ঘন্টা আগে, ১১:১৯ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

এল নিনোয় প্রভাবে ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা

চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির কারণে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজার তাপজনিত মৃত্যু ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব। ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে এ প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে।

গবেষণাটি অনুযায়ী, হিসাবটি ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরো এল নিনো সময়ের জন্য। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭—পরবর্তী ছয় মাসেই প্রায় ২ লাখ ৩৯ হাজার অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ৪ লাখ ৫১ হাজারের হিসাবটি পরবর্তী ছয় মাসের নয়, বরং জুন থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয় মাসের সময়কে নিয়ে করা।

গবেষকদের হিসাবে, এল নিনোর প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। এতে স্বাভাবিক বছরের তুলনায় চরম গরমের দিন প্রায় ৪৪ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, তাপজনিত মৃত্যুর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি রয়েছে তুলনামূলক উষ্ণ ও দরিদ্র অঞ্চলগুলোতে। আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণে বিস্তৃত সাহেল অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মৃত্যুর আশঙ্কা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৯ হাজার ৩০০, ভারতীয় উপমহাদেশে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে প্রায় ১৩ হাজার ৩০০ অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ায় সম্মিলিতভাবে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও গবেষণার সহলেখক মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ইতিমধ্যে উষ্ণ অঞ্চলে কয়েক ডিগ্রি অতিরিক্ত তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ধনী দেশগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকায় তাপ মোকাবিলার সক্ষমতাও বেশি।

গবেষণায় বিশ্বের ২৪ হাজার ৩৭৮টি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রা ও তাপমাত্রার সঙ্গে মৃত্যুহারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকেরা ১৯৯৬ থেকে ২০২৫ সালের গড় তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুহারের সঙ্গে এল নিনোর সময়কার সম্ভাব্য তাপমাত্রা ও মৃত্যুর হার তুলনা করে অতিরিক্ত মৃত্যুর হিসাব করেছেন।

গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, এল নিনো ফেব্রুয়ারির দিকে দুর্বল বা শেষ হয়ে গেলেও এর তাপজনিত প্রভাব আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী এল নিনো উত্তর গোলার্ধের বসন্ত পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং তাপজনিত মৃত্যুর প্রভাব ২০২৭ সালের জুন-জুলাই পর্যন্তও গড়াতে পারে।

প্রতিবেদনে তাপপ্রবাহের ক্ষতি কমাতে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, শীতলীকরণ কেন্দ্র, বিনা মূল্যে খাবার পানির ব্যবস্থা, খোলা জায়গায় কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বয়স্ক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের অতিরিক্ত নজরদারিতে রাখার পাশাপাশি চরম তাপমাত্রার আগেই জরুরি অর্থ ও সম্পদ প্রস্তুত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

গবেষকেরা বলছেন, এবারের অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ভবিষ্যতের জলবায়ুর একটি সম্ভাব্য চিত্রও তুলে ধরছে। ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের হিসাবে, এল নিনোর সময়কার এই অতিরিক্ত উষ্ণতা এমন পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রায় দুই দশক পর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় পরিণত হতে পারে।

প্রতিবেদনটি ২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে দেওয়া সংখ্যাগুলো প্রক্ষেপণ, ইতিমধ্যে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর হিসাব নয়। গবেষণাটির পদ্ধতি পূর্ববর্তী গবেষণার ওপর ভিত্তি করলেও প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় এটি এখনো পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হয়নি।

মন্তব্য করুন