প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ০৬:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কোনো চাপের মুখেই লংমার্চ বন্ধ হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা শওকত ইউসুফজাই। তিনি বলেছেন, লংমার্চ শেষ করার চাবিকাঠি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি দলটির প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের হাতে।
বুধবার দেশটির গণমাধ্যমগুলোর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। খবর জিও নিউজ উর্দুর।
ইমরান খানের মুক্তি, তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ এবং দলটির অন্যান্য নেতাকর্মীদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে পিটিআই লংমার্চ করছে। কর্মসূচিকে ঘিরে দলটির সঙ্গে সরকারের উত্তেজনা ও আলোচনা—দুটিই অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে শওকত ইউসুফজাই বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, গণমাধ্যমে আলোচনা-আলোচনা খেলা বন্ধ করুন। যদি আপনাদের ক্ষমতা থাকে, তাহলে আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিন।’
তিনি বলেন, ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে, তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে এবং তার মামলাগুলোর শুনানি করতে হবে। একই সঙ্গে ইমরান খানের বোনসহ কারাগারে বন্দি সব নারীকে মুক্তি দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
সোহাইল আফ্রিদিকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন শওকত ইউসুফজাই। তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, ম্যান্ডেট কেড়ে নিলে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল হবে না।
সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে মিলে সব অংশীজনকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে হবে।
শওকত ইউসুফজাই আরও বলেন, সোহাইল আফ্রিদিকে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি হবে। এটি দেশের স্বার্থে হবে না এবং এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদও কমবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে আলোচনার বিষয়ে পিটিআই নেতা ব্যারিস্টার গওহর বলেন, প্রধানমন্ত্রী শর্তসাপেক্ষে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার তাদের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সাধারণত কোনো শর্ত ছাড়াই আলোচনায় বসেন বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, পিটিআই আলোচনায় বসতে অস্বীকার করেনি, তবে আলোচনা শর্তহীন হতে হবে।
ব্যারিস্টার গওহর বলেন, সরকার বাইরে এসে ভেতরের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছে। সংবাদ সম্মেলনে যতটা সময় ব্যয় করা হয়েছে, তার অর্ধেক সময়ও যদি আলোচনায় দেওয়া হতো, তাহলে সমস্যার সমাধান হয়ে যেত।
তিনি আরও বলেন, সরকারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন