আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪৩ মিনিট আগে, ১১:৪২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

ছাত্র আন্দোলনের চাপের মুখে এবার পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। দীর্ঘদিনের ছাত্রনেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ ও সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলগ্রেডের প্রেসিডেন্ট ভবনে সমর্থকদের সামনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। এরপর তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব জাতীয় সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচের কাছে হস্তান্তরের কথা জানান।

ভুচিচ তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদ ছাড়লেন। সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে পারেন না। আগামী ২৫ অক্টোবর আগাম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) সরকার গঠন করতে পারলে ভুচিচ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য দলটির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

পদত্যাগের আগে বেলগ্রেডের প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকেরা জড়ো হন। ভুচিচ বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সংসদ স্পিকার আনা ব্রনাবিচ। সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বছরের শেষ নাগাদ আয়োজন করতে হবে।

ভুচিচের পদত্যাগের পেছনে দীর্ঘদিনের ছাত্র আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে নভি সাদ রেলস্টেশনের একটি কংক্রিটের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা ঘটনাটির জন্য দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সরকারের জবাবদিহির অভাবকে দায়ী করে আসছেন।

পরবর্তী সময়ে আন্দোলনটি শুধু দুর্ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহির দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। আগাম নির্বাচনসহ রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিও যুক্ত হয়। ২০২৬ সালে বিক্ষোভকারীরা আগাম সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বড় সমাবেশ করেন।

বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও বলপ্রয়োগের অভিযোগও ওঠে। কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিভিন্ন অংশ অস্বীকার করেছে।

সার্বিয়ার টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচও ছাত্র আন্দোলনের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন। আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর সমর্থনের বিষয়টি দেশটির গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। তবে তাঁকে ওই সমর্থনের কারণে দেশ ছাড়তে হয়েছে—এমন তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পদত্যাগের আগে ভুচিচ সংবিধানপ্রদত্ত ক্ষমতা ব্যবহার করে ৪৯ জনকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাঁদের মধ্যে গত দেড় বছরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৩ জন রয়েছেন বলে তিনি জানান।

ভুচিচের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ২৩ জনের মধ্যে নভি সাদ-সংশ্লিষ্ট একটি গ্রুপের ১২ জন এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ঘটনায় জড়িত ১১ জন রয়েছেন।

ভুচিচ ২০১৪ সালে সার্বিয়ার প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। পরে ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি সার্বিয়ার ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। একই সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণের নীতিও তাঁর সরকারের সময়ে অব্যাহত ছিল।

আগামী সংসদ নির্বাচন তাই ভুচিচের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার পর এবার তিনি এসএনএসের হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত আনা ব্রনাবিচ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন।

মন্তব্য করুন