প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৯:২৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসান এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরুতে অপরিশোধিত তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০.৮০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ২২ ডলারে উঠেছে।
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা আবার শুরু করা হবে। ইরানের প্রস্তাবটি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়েছিল।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধ করা, নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং দেশটির জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আরাগচি বলেন, এসব শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব।
তবে ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। পরে তিনি নিজেই বলেন, ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর তেলের বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আবারও বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাজারে প্রভাব ফেলছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। ফলে এই জলপথে নৌ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে।
তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এই প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।
মন্তব্য করুন