বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪৭ মিনিট আগে, ১০:৫৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

সহ-অভিনেতার বুকে মাথা রাখায় ইরানে মামলা

মঞ্চে সহ-অভিনেতার বুকে মাথা রেখে বিশ্রাম নেওয়ার একটি দৃশ্যকে কেন্দ্র করে ইরানে একটি নাট্যদলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। দেশটির সরকারি কৌঁসুলিরা দৃশ্যটিকে ‘সামাজিক রীতিনীতি’ লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে মামলাটি করেছেন।

‘তেহরান প্যারিস তেহরান’ নামের নাটকটিতে সারা নামে এক তরুণীর গল্প তুলে ধরা হয়েছে। বাবার হত্যার প্রতিশোধ নিতে তেহরান থেকে প্যারিসে যান তিনি। পরে আবার ইরানে ফিরে আসেন।

নাটকটির একটি দৃশ্য নিয়েই মূলত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেখানে অভিনেত্রী ফাতেমেহ মাসৌাদিফারকে তাঁর সহ-অভিনেতা মেহরদাদ সেদিঘিয়ানের বুকে মাথা রেখে থাকতে দেখা যায়। ওই সময় অভিনেতার হাতও অভিনেত্রীর মাথার ওপর ছিল বলে দৃশ্যটি দেখে মনে হয়।

ইরানের ইসলামি আইনে আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই—এমন নারী ও পুরুষের মধ্যে প্রকাশ্যে শারীরিক সংস্পর্শ নিষিদ্ধ। মঞ্চে অভিনয়ের ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ প্রযোজ্য বলে দেশটির আইনে উল্লেখ রয়েছে।

তবে নাটকটির প্রযোজনা সংস্থা বিতর্কিত দৃশ্যটির বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে।

‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রযোজনা সংস্থাটি দাবি করেছে, খুব কাছ থেকে এবং সংকীর্ণ কোণ থেকে ধারণ করা একটি মোবাইল ভিডিওর কারণে অভিনেতা-অভিনেত্রীকে বাস্তবের তুলনায় বেশি কাছাকাছি মনে হচ্ছে।

প্রযোজনা সংস্থাটির আরও দাবি, বিতর্কিত দৃশ্যে অভিনয় করা দুই চরিত্র আসলে ভাই-বোন। ফলে ইসলামি আইনের দৃষ্টিতে তাদের মধ্যে শারীরিক স্পর্শ নিষিদ্ধ নয়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, নাটকের একটি সংকটপূর্ণ মুহূর্তে ওই দৃশ্যটি দেখানো হয়েছিল। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপট পুরো মঞ্চায়নের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে না।

এর আগে চলতি সপ্তাহেই কোম শহরের একটি আপিল আদালত গায়িকা পারাস্তুা আহমাদি এবং আরও সাতজন সংগীতশিল্পীর সাজা বহাল রাখে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউটিউবের আয়োজিত একটি কনসার্টে হিজাব ছাড়া গান গাওয়ার কারণে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়েছিল।

আদালতের রায়ে প্রত্যেককে ৭৪টি বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুই বছরের জন্য তাঁদের গান পরিবেশন ও ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।

 

মন্তব্য করুন