তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৪৪ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

পর্দার নগ্ন দৃশ্য নিয়ে প্রেমের সম্পর্কে যে সমস্যায় পড়েছিলেন এমি রসম

‘শেমলেস’ সিরিজে ফিওনা গ্যালাঘার চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন এমি রসম। নয় মৌসুমের এই সিরিজে চরিত্রটির জীবনের নানা জটিলতা, সম্পর্ক ও পারিবারিক সংকটের পাশাপাশি একাধিক নগ্ন দৃশ্যেও দেখা গেছে অভিনেত্রীকে। এমির ভাষ্য, পর্দার সেই দৃশ্যগুলোর প্রভাব তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও প্রেমের সম্পর্কেও পড়েছিল।

সম্প্রতি মারিয়া শারাপোভার ‘প্রিটি টাফ’ অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন এমি। তিনি জানান, ‘শেমলেস’-এ নগ্ন দৃশ্যে অভিনয়ের কারণে বাস্তব জীবনে ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে তাঁকে বেশ কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁর সঙ্গে ডেট করা অনেক পুরুষেরই তাঁকে নিয়ে আগে থেকেই কিছু ধারণা তৈরি হয়ে যেত।

এমি বলেন, শোতে নগ্নতার কারণে বিষয়টি তাঁর জন্য বেশ জটিল হয়ে উঠেছিল। যেসব পুরুষের সঙ্গে তিনি বাইরে যেতেন, তাঁদের অনেকেরই তিনি বাস্তব জীবনে কেমন বা তাঁর যৌনতা সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা তৈরি হয়ে থাকত।

রাজনীতিতে যেতে চাওয়া সেই পুরুষ

এমি এমন একটি ঘটনার কথাও জানান, যা তাঁর কাছে বিশেষভাবে অস্বস্তিকর ও অদ্ভুত লেগেছিল। এক ব্যক্তি, যিনি ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ক্যারিয়ার গড়তে চেয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গে ডেটে যাওয়ার পর নিজের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথা জানান।

ওই ব্যক্তি এমিকে বলেছিলেন, তিনি একদিন প্রেসিডেন্ট হতে চান। এমি তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রশংসা করার পর ওই ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, ভবিষ্যতে নির্বাচনে দাঁড়ালে পর্দায় নগ্নভাবে উপস্থাপিত একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্কে থাকা তাঁর জন্য সমস্যা তৈরি করবে কি না।

এমির কাছে কথোপকথনটি ছিল অবিশ্বাস্য। তাঁর ভাষ্য, একজন সম্ভাব্য সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের আলোচনায় তাঁর অভিনীত দৃশ্যকে এভাবে বাস্তব জীবনের যৌন পরিচয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা অস্বাভাবিক ছিল। তিনি ওই পরিস্থিতিকে ‘ইনসেন কনভারসেশন’ বা অত্যন্ত অস্বাভাবিক আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

মাত্র ২৪ বছর বয়সে ‘শেমলেস’

এমি রসম যখন ‘শেমলেস’-এ অভিনয় শুরু করেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ২৪ বছর। সে সময় একজন তরুণ অভিনেত্রী হিসেবে নিজের পরিচয় তৈরি করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন ও সম্পর্ক নিয়েও নিজেকে বোঝার সময় পার করছিলেন তিনি।

এমির মতে, একজন শিল্পীর শরীর অনেক সময় তাঁর শিল্পের অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু দর্শক বা অন্যরা সেই বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন। তাঁর অভিজ্ঞতায়, পর্দায় শরীরের উপস্থাপনাকে কেন্দ্র করে তাঁর বাস্তব ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে মানুষের মধ্যে নানা ধারণা তৈরি হয়েছিল।

‘শেমলেস’-এর ফিওনা চরিত্রটি ছিল সিরিজটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে ফিওনার ওপর ছোট ভাইবোনদের দায়িত্ব ছিল। একই সঙ্গে তাঁর প্রেম, সম্পর্ক, যৌনতা ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।

তবে এমির অভিজ্ঞতায়, চরিত্র ও অভিনেত্রী—এই দুই পরিচয়কে আলাদা করে দেখাটা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে নগ্ন দৃশ্যগুলোকে কেন্দ্র করে তাঁর বাস্তব জীবন সম্পর্কে ধারণা তৈরি করতেন অনেকে।

‘শেমলেস’-এর আগে থেকেই হলিউডে পরিচিত ছিলেন এমি রসম। ‘দ্য ডে আফটার টুমরো’, ‘মিস্টিক রিভার’ ও ‘দ্য ফ্যান্টম অব দ্য অপেরা’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘দ্য ফ্যান্টম অব দ্য অপেরা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য গোল্ডেন গ্লোবের মনোনয়নও পেয়েছিলেন।

তবে ২০১১ সালে শুরু হওয়া ‘শেমলেস’ তাঁকে নতুন করে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। ২০২১ সালে শেষ হওয়া সিরিজটির নয় মৌসুমে ফিওনা চরিত্রে অভিনয় করেন এমি রসম।

মন্তব্য করুন