প্রকাশিত: ৪৮ মিনিট আগে, ১০:৫৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

লালমনিরহাটে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশুর পাশে হামিদুর রহমান

মো আব্দুল বারেক জেলা প্রতিনিধি 
  লালমনিরহাটে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত এক অসহায় শিশুর পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হামিদুর রহমান।শিশুটির চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। বিষয়টি জানতে পেরে শিশুটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন তিনি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আজীবন রক্তদানের দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন।
জানা গেছে, থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি রক্তজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত অনেক শিশুর শরীরে নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। ফলে রোগীর পরিবারের জন্য নিয়মিত রক্তের ব্যবস্থা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয় রক্ত না পাওয়া গেলে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এমন পরিস্থিতিতে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ওই শিশুটির চিকিৎসার জন্য নিয়মিত রক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানতে পারেন হামিদুর রহমান। শিশুটির চিকিৎসা যেন রক্তের অভাবে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি নিজে নিয়মিত রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
হামিদুর রহমান বলেন, “একজন অসহায় শিশুর জীবন বাঁচাতে যদি আমার রক্ত প্রয়োজন হয়, তাহলে যতদিন সম্ভব আমি রক্ত দিয়ে পাশে থাকতে চাই। একটি শিশুর মুখে হাসি ফিরিয়ে দিতে পারলে সেটিই আমার জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে বড় মানবিক কাজ আর কিছু হতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, সমাজে অনেক মানুষ বিভিন্নভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। তবে রক্তদান এমন একটি মানবিক কাজ, যার মাধ্যমে সরাসরি একজন মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব। তাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী শিশুটির পাশে থাকার চেষ্টা করবেন তিনি।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানের চিকিৎসার জন্য নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হওয়ায় তারা দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন। প্রতিবার রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তদাতা খোঁজা এবং সময়মতো রক্ত সংগ্রহ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ত। হামিদুর রহমান নিয়মিত রক্ত দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়ায় তাদের সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে হামিদুর রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলা হয়, একজন অপরিচিত মানুষের জন্য নিজের রক্ত দেওয়ার এমন মানসিকতা সত্যিই বিরল। তাঁর এই সহযোগিতা শুধু শিশুটির চিকিৎসায় সহায়তা করবে না, বরং পরিবারের মানসিক শক্তিও বাড়াবে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও হামিদুর রহমানের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাদের মতে, সমাজে এমন মানবিক উদ্যোগ যত বেশি ছড়িয়ে পড়বে, স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষের আগ্রহ তত বাড়বে। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু ও রোগীদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। তাই রক্তদাতাদের একটি নিয়মিত ও সচেতন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মানবিকতার এই উদ্যোগের মাধ্যমে হামিদুর রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন—রক্তের কোনো বিকল্প নেই, আর একজন মানুষের দেওয়া রক্ত অন্য একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। তাই সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তিদের নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হতে পারে। এ কারণে পরিবারগুলোর পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান, তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে।
হামিদুর রহমানের এই উদ্যোগ শুধু একটি শিশুর চিকিৎসায় সহায়তা করার ঘটনা নয়; এটি সমাজে মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মানবিকতার এই উদ্যোগে একটাই বার্তা—
“আপনার এক ব্যাগ রক্ত, বাঁচাতে পারে একটি জীবন

মন্তব্য করুন