আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১০:৫৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

জাতিসংঘের কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের আহ্বান খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের কার্যকারিতা বাড়ানো, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার এবং বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী ভাষণে তিনি এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

চলতি অধিবেশনের প্রতিপাদ্য ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে এবং এর সভাপতি বাংলাদেশের খলিলুর রহমান।

খলিলুর রহমান বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ যখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কার্যকরভাবে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তখন পুরো জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ কারণে পরিষদকে বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, আরও প্রতিনিধিত্বশীল ও স্বচ্ছ করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে সাধারণ পরিষদ পরিচালিত আন্তঃসরকারি আলোচনা প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানান।

নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত প্রতিনিধিত্বের প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আট দশক ধরে আফ্রিকা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও নিরাপত্তা পরিষদে মহাদেশটির কোনো স্থায়ী আসন নেই।

আফ্রিকার প্রতিনিধিত্বের দাবিকে ন্যায্যতা ও জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, মহাদেশটিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে যথাযথ স্থান দিতে হবে।

জাতিসংঘের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা পুনর্গঠনে তিনটি বিষয়ে জোর দেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এগুলো হলো—প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতা সম্পর্কে বাস্তববাদীভাবে স্বীকারোক্তি, কাঠামোগত সংস্কার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবসা, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করা।

তিনি বলেন, শুধু জাতিসংঘের টিকে থাকা সাফল্যের মাপকাঠি হতে পারে না; বিশ্বের মানুষ জানতে চায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যকরভাবে কাজ করছে কি না।

বৈশ্বিক উন্নয়ন ও সামরিক ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধানের বিষয়টিও তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। তাঁর ভাষণ অনুযায়ী, গত বছর ওইসিডিভুক্ত দাতাদের উন্নয়ন সহায়তা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ কমে প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। একই সময়ে বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয় প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে এবং টানা ১১ বছর তা বেড়েছে।

তিনি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অগ্রগতি থমকে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে উন্নয়ন সহায়তা বাড়ানো, ঋণের চাপ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামো সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন।

ভাষণে গাজা, সুদান, ইউক্রেন, মিয়ানমার ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন খলিলুর রহমান। তিনি আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার নীতিগুলো নির্বাচিতভাবে প্রয়োগ না করার আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে জাতিসংঘের কার্যক্রমের ইতিবাচক কিছু উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় জাতিসংঘের কাজ, ইরাকে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ব্যবস্থার ভূমিকা এবং হাইতিতে মানবিক কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার ও অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি। এআই-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ, ব্যবসা ও সুশীল সমাজকে সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

তিনি এআই নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক পর্যায়ে নির্ভরযোগ্য ও প্রমাণভিত্তিক ‘গার্ডরেল’ বা নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরির আহ্বান জানান এবং এআই নিয়ন্ত্রণে প্রতিযোগিতামূলক অস্ত্রদৌড়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের মূল লক্ষ্য হিসেবে আস্থা পুনর্গঠন ও পরিবর্তনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানকে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে খলিলুর রহমান বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার রাতারাতি সম্ভব নয়; এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন