প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে দেওয়া ৫ লাখ টাকা জরিমানা মওকুফের আবেদন ও বিচারিক কার্যকারিতা নিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এবং সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। তর্কের একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানি চলাকালে এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এক জুনিয়র আইনজীবীর ৫ লাখ টাকা ফাইন মওকুফের আরজি জানিয়ে বলেন, আপিল বিভাগে একটিমাত্র বেঞ্চ চলায় এবং চেম্বার জজ আদালতে মামলা ঝুলন্ত থাকায় আইনজীবীরা ঠিকমতো শুনানি করতে পারছেন না। একপর্যায়ে তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি হিসেবে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের আয়-রোজগারও অনেক কমে গেছে।
বার সভাপতির এই মন্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দুজনের মধ্যে কড়া কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সব বিচারক এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় চলে যান।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার খোকন বলেন, “আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জুনিয়র আইনজীবীর জরিমানা মওকুফের আবেদন করেছিলাম এবং বর্তমান বেঞ্চের সীমাবদ্ধতার কারণে আইনজীবীদের আয় কমে যাওয়ার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিলাম। প্রধান বিচারপতি এভাবে রাগান্বিত হয়ে এজলাস ছাড়বেন তা ভাবিনি।”
অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, “সংশ্লিষ্ট আইনজীবী আদালতের সাথে তথ্য গোপন ও আগের আদেশ লঙ্ঘন করায় দেখে-শুনেই সাজা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বার সভাপতি যেভাবে প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে ব্যক্তিগত ও অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করেছেন, তা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল। প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নজরে এনে বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত রেখে এজলাস ত্যাগ করেছেন।”
মন্তব্য করুন