প্রকাশিত: ১৯ আগষ্ট, ২০২৬, ১০:৩৭ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মেক্সিকোতে এক নারীর মাতৃত্বের তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও সামাজিক চাপ শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে যায় শিশু চুরির মতো গুরুতর অপরাধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র ‘আ চাইল্ড অব মাই ওন’ সম্প্রতি মুক্তির পর ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তথ্যচিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্র এলেওর আলেহান্দ্রা মারিন মেন্দোজা, যিনি ২০০৯ সালে একটি হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি করেছিলেন।
তথ্যচিত্রে দেখা যায়, পরপর তিনবার গর্ভপাতের পর সন্তানধারণে ব্যর্থ হয়ে সামাজিক ও পারিবারিক চাপে ভেঙে পড়েন আলী। স্বামী ও পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে তিনি ভুয়া গর্ভধারণের গল্প তৈরি করেন এবং নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা হিসেবে উপস্থাপন করতে নথিপত্র পর্যন্ত জাল করেন।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিজের ‘সন্তান জন্মের’ গল্প বাস্তবায়নের জন্য একটি শিশুর প্রয়োজন হয়ে পড়ে। আলীর দাবি ছিল, শিশুটির মা স্বেচ্ছায় তাকে সন্তানটি দিতে রাজি হয়েছিলেন। তবে তদন্তে সেই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি; শিশুটির মা স্পষ্টভাবে এমন কোনো চুক্তির কথা অস্বীকার করেন।
তদন্তে আরও উঠে আসে, হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে আলীকে একটি খালি ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে এবং পরে নবজাতকসহ বের হতে দেখা যায়। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
শিশু চুরির অপরাধে আদালত তাকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড দেয়। মোট ১৩ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটানোর পর ২০২৩ সালে মুক্তি পান তিনি।
তথ্যচিত্রটি শুধু একটি অপরাধের বিবরণ নয়; বরং মাতৃত্বের সামাজিক চাপ, দাম্পত্য সম্পর্ক, ব্যক্তিগত সংকট এবং সত্যকে নিজের মতো করে বিশ্বাস করার মানসিক প্রবণতাকে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে তথ্যচিত্রের প্রথম অংশে বাস্তব ঘটনাকে অভিনয়ের মাধ্যমে উপস্থাপন করে নির্মাতারা দর্শকের সামনে বাস্তবতা ও ব্যক্তিগত বয়ানের পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘আ চাইল্ড অব মাই ওন’ সমাজে নারীদের ওপর আরোপিত মাতৃত্বের চাপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। সন্তানধারণকে নারীর একমাত্র পরিচয় হিসেবে দেখার প্রবণতা কীভাবে চরম সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে, এই তথ্যচিত্র তারই এক বাস্তব উদাহরণ।
তথ্যচিত্রটি শেষ পর্যন্ত একটি বড় প্রশ্ন সামনে আনে—মা হওয়া কি শুধুই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি সমাজের প্রত্যাশাই অনেক সময় তা নির্ধারণ করে?
মন্তব্য করুন