প্রকাশিত: ১০ আগষ্ট, ২০২৬, ০১:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে মানবিক বিভাগে ছাত্রদের পাসের হারে বড় ধরনের অবনমন দেখা গেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার মাত্র ৪১ দশমিক ১৪ শতাংশ, অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০০ জন ছাত্রের মধ্যে প্রায় ৫৯ জনই পাস করতে পারেনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান তার কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করেই মানবিক বিভাগের এই চিত্র উঠে আসে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তিনটি বিভাগের মধ্যে মানবিকেই ছাত্রদের পাসের হার সবচেয়ে কম। তুলনামূলকভাবে এ বিভাগে ছাত্রীদের পাসের হার বেশি— ৫৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যদিও সেখানেও প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৪৬ জন পাস করতে পারেননি। ছাত্র-ছাত্রীদের এই পাসের হারের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশীয় পয়েন্টে, যা একই বিভাগে মেয়েদের উল্লেখযোগ্য এগিয়ে থাকার প্রমাণ দেয়।
অন্যদিকে বিজ্ঞান বিভাগে ফলাফল তুলনামূলক ভালো, এখানে ছাত্রদের পাসের হার ৭৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৮৩ দশমিক ৭০ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৫৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৬৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ তিন বিভাগেই ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও মানবিকেই এই ব্যবধান সবচেয়ে বেশি, আর ছাত্রদের পাসের হারও এই বিভাগেই সবচেয়ে কম।
সামগ্রিক ফলাফলেও এবার পাসের হার কমেছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার এবার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, গত বছর যা ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ— অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশীয় পয়েন্ট। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পাসের হার ঢাকা বোর্ডে, ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এরপর যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং ময়মনসিংহে সর্বনিম্ন ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
সার্বিকভাবে এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে, যা গত বছরের ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশের তুলনায় ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে, এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
মন্তব্য করুন