প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৫:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন অন্যতম প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই দেশটির মূল্যস্ফীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিতর্কিত মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র ঝড় তুলেছে। গত তিন বছরের মধ্যে মার্কিন মুলুকে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মুদ্রাস্ফীতি ভালোবাসি’।
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৩.৮ শতাংশ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে অর্থনীতিবিদেরা উল্লেখ করেছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, সেখানে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা সরাসরি মার্কিন মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে বলেন, “আমি এটা ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো দুর্দান্ত। জানেন আমি আসলে কী ভালোবাসি? আমি মূল্যস্ফীতিকে ভালোবাসি।”
প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য প্রকাশের পরপরই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন যে তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন:
“যুদ্ধ চলার পরও মূল্যস্ফীতির হার আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে কম রয়েছে। আমি মূল্যস্ফীতি বাড়াকে সমর্থন করিনি; বরং এটি যে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেনি, তাতেই আমি সন্তুষ্ট। যুদ্ধ শেষ হলে এই হার দ্রুত কমে আসবে এবং সংঘাত শুরুর আগের সময়ের চেয়েও নিচে নেমে যাবে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সৃষ্টির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে teler দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার দাবি করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।
জ্বালানির চড়া মূল্য: মার্কিন অটোমোবাইল সংগঠন ‘এএএ’-এর তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ৪.১৫ ডলারে পৌঁছেছে। অথচ গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর সময়েও এই দাম ছিল মাত্র ২.৯৮ ডলার।
অন্যান্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি: সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল জ্বালানি নয়; বরং বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত সেবা, বিনোদন এবং যোগাযোগ খাতেও নাগরিকদের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
মূল্যস্ফীতির এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক 'ফেডারেল রিজার্ভ' বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে আবারও সুদের হার বৃদ্ধি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। বর্তমানে দেশটিতে সুদের হার ৩.৫ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
এদিকে, দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিরোধী ডেমোক্র্যাট নেতারা। মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর (ট্রাম্পের) অবজ্ঞার কোনো সীমা নেই।” আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ইস্যুটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মন্তব্য করুন