প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:০৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অটোরিকশাচালক মো. হৃদয় (২১) হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনো কিশোর অপরাধী চক্রের আধিপত্য বা মোটরসাইকেলের সাইড দেওয়া নিয়ে বিরোধ ছিলন না। বরং এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দুই তরুণের প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পর এই নতুন তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা বাজার এলাকায় হৃদয়কে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হৃদয় ওই ইউনিয়নের শাকতলা গ্রামের মৃত হেদায়েত উল্ল্যার ছেলে। ঘটনার পরপরই হৃদয়ের বন্ধুদের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয় যে, মোটরসাইকেলের সাইড দেওয়াকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এই খুন হয়েছে। তবে পুলিশের নিবিড় তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ উন্মোচিত হয়।
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, শাকতলা গ্রামের রাকিব ও ঘোষতল গ্রামের প্রান্ত—দুজনের সঙ্গেই স্থানীয় এক প্রবাসী গৃহবধূর সম্পর্ক ছিল, যার স্বামী বর্তমানে প্রবাসে থাকেন। নিহত হৃদয় ছিলেন রাকিবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সম্প্রতি ওই নারী রাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিলে তিনি সন্দেহ করেন যে, প্রান্তের উসকানিতেই এমনটা হয়েছে। এই ক্ষোভের জেরে বুধবার রাতে রাকিব তাঁর সহযোগীদের নিয়ে ধোড়করা বাজারে যান এবং প্রান্তের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এই সংঘর্ষ চলাকালীন প্রান্তের সহযোগী রাজীব নামের এক যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে হৃদয়ের বুকে গভীর আঘাত করেন, যার ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আকিব মাহমুদ জানান, রাত সাড়ে নয়টার দিকে হৃদয়কে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁর বুকের ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের বড় ভাই ফারুক হোসেন বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
চৌদ্দগ্রাম থানায় কর্মরত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন প্রান্ত ও পানসীকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া প্রধান অভিযুক্ত রাজীবকে পালাতে সাহায্য করার অপরাধে জসিম উদ্দিন নামের আরেকজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ওই গৃহবধূকেও বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর প্রকৃত অপরাধ আড়াল করতে এবং তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মোটরসাইকেলের সাইড দেওয়া বা কিশোর গ্যাংয়ের হামলার গুজব ছড়ানো হয়েছিল, যার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ভাইয়ের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না দাবি করে নিহত হৃদয়ের বড় ভাই ফারুক হোসেন বলেন, ‘দুই পক্ষের বিরোধের সঙ্গে আমার ভাইয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না। সে অটোরিকশাচালক। গতকাল সন্ধ্যায় আমার কাছ থেকে চা㶪য়ার জন্য কিছু টাকা নিয়ে বের হয়েছিল। পরে খবর পাই, তাকে ছুরিকাঘাত করেছে। আমরা গরিব ও নিরীহ মানুষ। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’
মন্তব্য করুন