প্রকাশিত: ১৪ মে, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের সৌর বিদ্যুৎ খাতে বড় আকারের বিনিয়োগ আকর্ষণে আগামী জুন মাসের মধ্যেই একটি যুগান্তকারী নীতিমালা ঘোষণার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নীতিমালা চালু হলে পোশাক খাতের ন্যায় সৌরশক্তিতেও এক নীরব বিপ্লব ঘটবে। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বিনিয়োগ ভবনে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের যৌথ এই আয়োজনে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নয়, বরং বিশ্বের প্রধান কার্যসূচি। তিনি আরও বলেন, সৌর বিদ্যুৎ এখন বিশ্বের প্রধান অ্যাজেন্ডা। বাংলাদেশও দ্রুত এই পথে এগোতে চায়। সরকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় পলিসি সাপোর্ট দেবে, যেন তারা বিনিয়োগের সঠিক রিটার্ন পায়।
কর্মশালার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত ১৩০-১৪০ মেগাওয়াট (এসি) ক্ষমতার ‘গ্রিড-টাইড সোলার পাওয়ার প্লাস ব্যাটারি স্টোরেজ’ প্রকল্প। জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অধীন বেজার ৪১২ একর জমিতে পিপিপি ভিত্তিতে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের ক্রেতা হিসেবে থাকবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন তার সভাপতির বক্তৃতায় মন্তব্য করেন, সোনাগাজী প্রকল্পটি শুধু একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নয়, বরং সরকারি অব্যবহৃত জমি ব্যবহার করে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি “রেপ্লিকেবল মডেল”। তিনি জানান, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই প্রকল্পটির ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের শতাধিক উদ্যোক্তা এই কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সেখানে আমদানি করা জ্বালানির ওপর সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ অবস্থায় সৌর বিদ্যুৎ গ্রিড স্থিতিশীল রাখতে এবং জ্বালানি ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্প তাই ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি গ্রিডে ভারসাম্যও রক্ষা করবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করে, গত ১৮ মার্চ ২০২৫ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় প্রকল্পটি পিপিপি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন লাভ করে। পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল ২০২৬ সরকারি জমিতে পিপিপি পদ্ধতিতে নবায়নযোগ্য প্রকল্প বাস্তবায়নের একটি বিশেষ নির্দেশিকা অনুমোদিত হয়, যার আওতায় সোনাগাজী প্রকল্পটিকে ‘পাইলট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, আর্থিক কাঠামো নির্ধারণ ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে এশীয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমেই বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারিত হবে বলে কর্মশালায় জানানো হয়।
মন্তব্য করুন