আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৩৩ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন প্রস্তাব: ওমান অংশ দিয়ে চলাচলের সুযোগ

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি নতুন ও কৌশলগত প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এই প্রণালির ওমান অংশ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিতে প্রস্তুত তারা। তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে তেহরানের দেওয়া দাবিগুলো মেনে নিতে হবে।

ইরানের দেওয়া এই নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো যদি হরমুজ প্রণালির ওমান উপকূল সংলগ্ন অংশ দিয়ে চলাচল করে, তবে ইরান সেসব জাহাজে কোনো ধরনের হামলা চালাবে না। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মূলত অবরুদ্ধ হয়ে থাকা বৈশ্বিক বাণিজ্যকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান, তবে এর বিনিময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বড় ধরনের কূটনৈতিক বা সামরিক ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে।

১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালিটি পারস্য উপসাগর এবং আরব সাগরকে যুক্ত করেছে। এর উত্তর দিকে ইরান এবং দক্ষিণ দিকে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত অবস্থিত। হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম কারণ:

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের মোট সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ (এক-চতুর্থাংশ) এই পথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জন্য এই রুটটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই তিন দেশের প্রয়োজনীয় জ্বালানি পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে।

জ্বালানি ছাড়াও সার, রাসায়নিক ও অন্যান্য জরুরি শিল্পপণ্য পরিবহণের প্রধান রুট এটি। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান এখানে কঠোর অবরোধ জারি করে। 

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বর্তমানে হরমুজে কয়েক শত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ২ হাজারেরও বেশি নাবিক (ক্রু) আটকা পড়ে আছেন। অবরোধের কারণে জাহাজগুলো দীর্ঘ পথ ঘুরে যাতায়াত করছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং অনেক দেশে সরবরাহ সংকট তীব্র হয়েছে।

ইরানের এই নতুন প্রস্তাব আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই প্রস্তাব নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয় কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ববাজারের স্থিতিশীলতা। এখন দেখার বিষয়, ওমান অংশ ব্যবহারের এই প্রস্তাবকে যুক্তরাষ্ট্র একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে কি না।

মন্তব্য করুন