মো: রিফাত হোসাইন

প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি কৃত্রিম বিরোধ ও সংকট তৈরি করছে: নাহিদ ইসলাম

বিএনপি বর্তমানে একটি কৃত্রিম বিরোধ ও সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সংবিধান সংস্কার কমিশন ও গণভোট ইস্যুতে সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে (আইইডিবি) আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

'গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ' শীর্ষক এই সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল দাবি ছিল ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার স্থায়ী বিলোপ এবং এমন এক নতুন রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্ত, যেখানে স্বৈরাচার আর কখনো ফিরে আসতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা ফ্যাসিবাদের বিলোপ ও নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম, আর বিএনপি চেয়েছিল দ্রুত নির্বাচন। শেষ পর্যন্ত ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার এবং গণভোটের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু এখন গণভোটের রায়কে অস্বীকার করে বিএনপি একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।"

বিএনপির দ্বৈত নীতির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, তারা মুখে জুলাই সনদ পালনের কথা বললেও যে ‘জুলাই আদেশের’ ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাকেই অবৈধ বলছে। তিনি পরিষ্কার করে জানান যে, সংবিধানের মৌলিক সংস্কার কেবল সংশোধনের মাধ্যমে সম্ভব নয় বলেই সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব এসেছিল, যা গণভোটের মাধ্যমে জনসমর্থন পেয়েছে।

দেশের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গতকালও ১০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সারা দেশে মানুষ আইসিইউ পাচ্ছে না, জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট চলছে। তাঁর মতে, গত ১৬ বছর ধরে যে সংস্কারের জন্য লড়াই হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, এখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে আবারও সেই একই বিষয়ে কথা বলতে হচ্ছে এবং আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।

জাতিকে নতুন করে রাজনৈতিক দুর্যোগের দিকে টেনে আনার জন্য বিএনপিকে সতর্ক করে নাহিদ ইসলাম বলেন, "এর পরিণতি খুব একটা সহজ হবে না। এই অস্থিরতার সকল দায়ভার এবং পরিণতি বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে।"

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বক্তারা সবাই জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য করুন