প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:১২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর প্রথমবারের মতো ইসরাইল ও লেবাননের নেতারা আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সরাসরি বৈঠকে বসছেন। স্থানীয় সময় বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, “ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছি। প্রায় ৩৪ বছর ধরে দুই দেশের নেতারা একে অপরের সাথে কথা বলেননি। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) তা হতে যাচ্ছে। ভালো লাগছে!” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের এই জটিল সময়ে লেবাননের সাথে ইসরাইলের আলোচনা শুরু হওয়া একটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে গত ২ মার্চ থেকে লেবানন সীমান্ত আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরাইলের ওপর হামলা শুরু করলে লেবানন এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এরপর থেকে ইসরাইলি বাহিনীর পাল্টা হামলায় লেবাননে, ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। ০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় ইসরাইলি স্থল অভিযান ও ‘বাফার জোন’ তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
১৯৯০-এর দশকের পর এই প্রথম দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে কোনো সরাসরি আলোচনা হতে যাচ্ছে। যদিও এর আগে সমুদ্রসীমা নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল, তবে সরাসরি রাজনৈতিক বৈঠক এই অঞ্চলের পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে যেখানে ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের নতুন এলাকা দখলের চেষ্টা করছে, সেখানে এই বৈঠক যুদ্ধবিরতি নাকি অন্য কোনো সমঝোতার পথে এগোবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
আগামী ২২ এপ্রিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই বৈঠকটি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লেবানন ও ইসরাইলের এই বৈঠক সম্পর্কে আপনার বিশেষ কোনো প্রশ্ন আছে কি?
মন্তব্য করুন