তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১১:০৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হাসনাত আবদুল্লাহকে চট্টগ্রামে অবরুদ্ধ: এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

পহেলা বৈশাখের দিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাসভবনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর আগমনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বন্দরনগরীর রাজনীতি। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে সাবেক মেয়রের বাসভবনের সামনে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে হাসনাত আবদুল্লাহর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, হাসনাত আবদুল্লাহরা সংসদে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে বড় বড় কথা বললেও বাস্তবে নিজেদের স্বার্থে তাদেরই পুনর্বাসন করছেন। ঢাকা থেকে এসে মনজুর আলমের সঙ্গে দেখা করাকে তিনি এই ‘ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের’ প্রমাণ হিসেবে অভিহিত করেন। এসময় উপস্থিত কেউ কেউ হাসনাতকে ‘জুলাই গাদ্দার’ বলেও স্লোগান দেন।

ঘটনার বিষয়ে সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে হাসনাত আবদুল্লাহ সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মধ্যাহ্নভোজের জন্য তাঁর উত্তর কাট্টলীর বাসভবনে এসেছিলেন। এটি ছিল একান্তই সৌজন্যমূলক সফর এবং সেখানে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা বা এনসিপিতে যোগদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। তাঁর বাসার সামনে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে তিনি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন সংসদ সদস্য সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে চাইলে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ কোথায়?

জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক জোবাইরুল আরিফ এই হেনস্তার পেছনে ডা. শাহাদাতের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তোলেন যে, মাত্র পাঁচ মাস আগেও যাঁর সঙ্গে বিএনপি কর্মসূচি পালন করেছে, সেই মনজুর আলম হঠাৎ করে কীভাবে ‘ফ্যাসিস্ট’ হয়ে গেলেন। হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত সফরে চট্টগ্রাম এসেছিলেন এবং আরও অনেকের সঙ্গেই দেখা করেছেন বলে তিনি জানান।

বর্তমানে চট্টগ্রামে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপি ও বিএনপির মধ্যকার এই দূরত্ব আগামী রাজনৈতিক মেরুকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্য করুন