প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ইউরোপের অন্যান্য দেশ যখন অভিবাসন নিয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তখন এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতার আওতায় আনার লক্ষ্যে ‘সাধারণ ক্ষমা’ (অ্যামনেস্টি) কর্মসূচি অনুমোদন করেছে স্পেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন সরকার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেয়।
খবর আল-জাজিরা-র।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে অনলাইনে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সরাসরি আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। এই কর্মসূচির আওতায় যোগ্য অভিবাসীরা এক বছরের জন্য স্পেনে থাকা ও কাজ করার অনুমতি পাবেন, যা পরবর্তীতে নবায়নের সুযোগ থাকবে।
আবেদনের প্রধান শর্তাবলি:
আবেদনকারীকে অবশ্যই ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে।
স্পেনে অন্তত পাঁচ মাস বসবাসের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে হবে।
আবেদনকারীর কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড (Criminal Record) থাকা চলবে না।
স্পেন সরকারের এই ঘোষণায় দেশটিতে বসবাসরত হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক ভিডিও ক্লিপে বার্সেলোনায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের উল্লাস করতে এবং প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে ধন্যবাদ জানাতে দেখা যায়। মুরুল ওয়াইদ নামের এক বাংলাদেশি অভিবাসী বলেন, "এখানে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া থাকা এবং কাজ খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন ছিল। বৈধ হওয়ার এই খবরে আমরা সবাই এখন আশার আলো দেখছি।"
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই উদ্যোগকে ‘ন্যায়বিচার’ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ‘প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করলেও অভ্যন্তরীণভাবে রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে ৫ লাখের বেশি আবেদন সামাল দেওয়ার মতো প্রশাসনিক সক্ষমতা বর্তমানে নেই।
ইউরোপের অনেক দেশে যখন অভিবাসনবিরোধী মনোভাব প্রবল হচ্ছে, তখন স্পেনের এই বিশাল সাধারণ ক্ষমার সিদ্ধান্তকে একটি মানবিক ও কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। স্পেনের কৃষি, নির্মাণ ও সেবা খাতে শ্রমশক্তির ঘাটতি মেটাতে এই বৈধকরণ প্রক্রিয়া বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন