নাজমুল হুদা

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৪:০৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও বিতর্কহীন বাহিনী হিসেবে গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তি-নির্ভর ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতীফের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো— সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে এমনভাবে সক্ষম করে তোলা যাতে তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে। এর অংশ হিসেবে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে। এছাড়া ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের আওতায় দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার মাধ্যমে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার।

বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো— সশস্ত্র বাহিনীকে সম্পূর্ণ আধুনিক, দ্রুত মোতায়েনযোগ্য (কুইক), স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং সকল প্রকার রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখা। বাহিনীকে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পন্ন পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

প্রচলিত অস্ত্রের পাশাপাশি আধুনিক সমরবিদ্যার নতুন ক্ষেত্রগুলোতেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন:

  • সাইবার স্পেস ও তথ্যযুদ্ধ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি।

  • ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার।

  • উপকূলীয় নিরাপত্তা ও জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষা।

  • বিমানবাহিনীতে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজন।

  • নৌবাহিনীর জন্য আধুনিক নৌযান ও সাবমেরিন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।

সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত ও অবসরোত্তর মর্যাদার বিষয়েও সরকার সচেতন। প্রধানমন্ত্রী জানান, আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সদস্যদের কল্যাণ এবং ‘ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন’-এর মতো বিষয়গুলো সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করতে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যৌথ প্রশিক্ষণ, মহড়া এবং প্রতিরক্ষা সংলাপ পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়ন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

মন্তব্য করুন