মো: সাইফুল আলম সরকার, ঢাকা

প্রকাশিত: ১৬ ঘন্টা আগে, ১২:০৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নারী নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর

ছবি তরুণ কণ্ঠ

 

জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে হুট করে দৃশ্যপটে আসা এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক থেকে নবগঠিত দল এনসিপি-র মুখ্য সমন্বয়ক বনে যাওয়া নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম বিতর্ক। বিশেষ করে নারীঘটিত কেলেঙ্কারি, আর্থিক জালিয়াতি এবং তার রাজনৈতিক অফিসের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ এখন তুঙ্গে। ছাত্র রাজনীতির সময় থেকে শুরু করে সংসদ নির্বাচন—নাসিরের বিরুদ্ধে বিতর্কের পাল্লা কেবল ভারীই হচ্ছে।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে ২০১৯ সালের ৮ এপ্রিল তাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। সংগঠনটির দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, ঢাবির টেলিভিশন ও ফিল্ম মিডিয়া বিভাগের এক ছাত্রীর সাথে চরম অনৈতিক আচরণ এবং আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, নাসির এই অভিযোগগুলো নিজে লিখিতভাবে স্বীকারও করেছিলেন।


নাসিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। ‘মেজাবিন অনন্যা’ (ছদ্মনাম) নামের এক ছাত্রীর ল্যাপটপ নিয়ে আর ফেরত না দেওয়ার মতো চুরির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ‘ফাতেমাতুজ জোহরা’ (ছদ্মনাম)-সহ একাধিক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ও তাদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই ঘটনাগুলো ধামাচাপা দিতে নাসির বিভিন্ন সময় তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেছেন।
এতো গেল ছাত্রাবস্থায় নাসিরের কেলেঙ্কারির ফিরিস্তি। তবে বর্তমানেও তিনি এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন সমানতালে।


রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকার পারাবত হোটেল ভবনটি এখন কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ দুর্গে পরিণত হয়েছে। এই ভবনেই অবস্থিত নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর নির্বাচনী ( ঢাকা-৮ আসন) অফিস। অভিযোগ উঠেছে, তার প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়েই এখানে নিয়মিত চলে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড।


হোটেল মালিক ওয়াদুদ চৌধুরী স্বয়ং এনসিপির রাজনীতির সাথে জড়িত হওয়ায় সেখানে ছাত্র শক্তির ক্যাডারদের অবাধ যাতায়াত। সিলেট থেকে ‘অবাঞ্ছিত’ হয়ে আসা এক নারী নেত্রী এই হোটেলের স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে রাজনৈতিক শেল্টারে অনৈতিক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। গত নির্বাচনের আগে তাকে জনৈক পুরুষের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা গেলেও নাসির তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি।


পারাবত হোটেলের ওপর নির্বাচনী অফিসের সাইনবোর্ড থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে তল্লাশি চালাতে দ্বিধাবোধ করে। এনসিপির ত্যাগী ও আদর্শবান কর্মীরা এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, নাসিরের মতো বিতর্কিত নেতার ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি এবং অফিসের নিচে অসামাজিক কার্যকলাপ দলের ভাবমূর্তি ধূলিসাৎ করছে।


অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, নাসিরের জালিয়াতি ও অসামাজিক কার্যকলাপের সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি (অডিও-ভিডিও ও ছবি) তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ করলে আইডি রিপোর্ট করে তথ্য গোপনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই সিন্ডিকেট বন্ধ না হলে প্রমাণগুলো সরাসরি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।


এসব বিষয়ে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বা ওয়াদুদ চৌধুরীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন