আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৪:১৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ব্যর্থ: ‘সুসংবাদ’ ও ‘দুঃসংবাদ’ একসঙ্গে দিলেন জেডি ভ্যান্স

ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে কথা বলছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবি : সংগৃহিত

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক পাকিস্তান বৈঠক কোনো ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই ম্যারাথন আলোচনার ফলাফলকে একই সঙ্গে ‘সুসংবাদ’ ও ‘দুঃসংবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের মতে, সুসংবাদ হলো এই প্রথম দুই পক্ষ অত্যন্ত গভীর ও সারগর্ভ আলোচনায় অংশ নিয়েছে। তবে দুঃসংবাদ হলো, ২১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই দীর্ঘ বৈঠক শেষেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ভ্যান্স বিষয়টিকে ইরানের জন্য একটি ‘বড় দুঃসংবাদ’ বলে সতর্ক করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ইরান হয়তো দ্রুত আপস করবে—এমন একটি সমীকরণ মাথায় নিয়েই আমেরিকান প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে এসেছিলেন। তবে বাস্তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে রাজি হয়নি। জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেন, "তারা আমাদের শর্তগুলো গ্রহণ করেনি।"

সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এই বিশ্বাস নিয়ে আলোচনায় বসেছিল যে তারা এখনো লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। বিশেষ করে কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর নিয়ন্ত্রণকে ইরান তাদের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে দরকষাকষিতে ব্যবহার করেছে।

এক দশক আগে পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে যেখানে ১৮ মাস সময় লেগেছিল, সেখানে মাত্র ২১ ঘণ্টার বৈঠকে সমাধান আশা করা ছিল অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী এক পরিকল্পনা। ইসলামাবাদে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। ট্রাম্পের সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে—হয় সামরিক শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাওয়া, অথবা দীর্ঘমেয়াদি কূটনীতির মাধ্যমে নতুন কোনো সমাধানের পথ খোঁজা।

উল্লেখ্য, এই ঐতিহাসিক আলোচনার সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গেও পৃথকভাবে মতবিনিময় করেছেন। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অনমনীয় অবস্থানের কারণে আপাতত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনের পথটি অনিশ্চিত হয়েই রইল।

মন্তব্য করুন