প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্য ও তাঁর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ওই সেনা সদস্যের একটি পা ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা। আহত দুজনকে প্রথমে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের। এ ঘটনায় বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. আব্দুর রহমান (৪৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত আজাহার শেখের ছেলে আব্দুর রহমানের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই মো. মিজানুর শেখ ও আমিনুর শেখসহ পরিবারের কয়েকজনের পৈতৃক জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে মিজানুর শেখ (৪০), ইয়াসিন শেখ (২২), আমিনুর শেখ (৩৮) ও ওমর শেখ (১৮)সহ আরও ৩-৪ জন আব্দুর রহমানের মালিকানাধীন জমিতে গিয়ে একটি বড় নিমগাছ কাটতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় আব্দুর রহমান বাধা দিলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি ওইদিনই বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর থানার এসআই মো. ফয়সাল আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর সকালে কেটে রাখা নিমগাছ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পুলিশ খবর পেয়ে গাছের গুঁড়িগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, গাছের গুঁড়ি থানা হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দিন বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়।
এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে স্ত্রী সেলিনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হামলায় লাঠি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আব্দুর রহমানের একটি পা ভেঙে যায় বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরে প্রতিবেশীরা আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জমিতে থাকা গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আমিনুর শেখের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোয়ালমারী থানার এসআই মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরদিন গাছ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে খবর পেয়ে গাছের গুঁড়িগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন