প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:২৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিন এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার গাজী নজরুল ও মাকছুদার সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত গাজী নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল, মাকছুদা ও মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা অভিযোগ করেন, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। এরপর তারা ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, মরিয়ম এসব বিষয় বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন। ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে একটি কক্ষে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশের পর মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় একটি কথিত সুইসাইড নোট পাওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নোটটির লেখক মরিয়মই কি না, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে মরিয়মের মৃত্যুর সময় আসামিরা একই বাসায় ছিলেন কি না এবং আত্মহত্যায় তাদের কোনো প্রভাব বা প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া মরিয়মকে মানসিক চাপ, ভয়ভীতি বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল কি না, মামলার পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা কী ছিল এবং ঘটনায় অজ্ঞাত অন্য কেউ জড়িত কি না—এসব বিষয় তদন্তের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়েছে পুলিশ।
এর আগে জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। পরে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নৈতিক স্খলনের অভিযোগে গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মরিয়মের মামা ও গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে মরিয়মকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল। ওই মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে তিনি আট সপ্তাহের জামিন পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা নতুন আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এখন ওবায়দুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং আসামিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মন্তব্য করুন