প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছরের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আইফোন দিয়ে টিকটকের ভিডিও ও ছবি তোলার কথা বলে অপ্রতিমকে বাসা থেকে বের করে নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন এলাকার অন্তত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তার সঙ্গে মামলার আসামি সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ কয়েকজনের গতিবিধি ধরা পড়ে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার শীলা।
তদন্তকারী সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঘটনার দিন শুক্রবার অপ্রতিম বাসাতেই ছিল। তাকে বাইরে নিয়ে আসতে তুহিন তার ফোনে একাধিক মেসেজ পাঠায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। একপর্যায়ে অপ্রতিমের কাছে থাকা দামি আইফোন দিয়ে টিকটকের জন্য ভিডিও ও ছবি তোলার কথা বলা হয়।
এরপর বেলা আড়াইটার দিকে মায়ের মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। পরে আর সে বাড়ি ফেরেনি।
পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, বেলা ৩টা থেকে ৩টা ১০ মিনিটের মধ্যে তুহিনের সঙ্গে অপ্রতিমের দেখা হয়। এরপর বিভিন্ন এলাকার অন্তত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাদের গতিবিধি ধরা পড়ে।
ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে পাশাপাশি হাঁটতে ও কথা বলতে দেখা যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একটি ফুটেজে তাদের পেছনে আরও দুজনকে হাঁটতে দেখা যায়। অন্য একটি ফুটেজে চারজনকে একসঙ্গে দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম ও তুহিন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়। মূল সড়ক থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরের আঁকাবাঁকা কাঁচা পথ ধরে ওই এলাকায় যেতে হয়।
পুলিশের পাওয়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিম ও তুহিনকে পাশাপাশি হেঁটে ওই পাহাড়ের দিকে যেতে দেখা যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নির্জন এলাকায় পৌঁছানোর পর আরও দুই কিশোর তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে নির্জন ওই এলাকায় অপ্রতিমের কাছ থেকে আইফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অপ্রতিম ফোনটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
একপর্যায়ে তুহিন একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে বলে তদন্তে জানা গেছে। এরপর অন্যরাও তার ওপর হামলা চালায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরে অপ্রতিমের মরদেহ ঘটনাস্থলে রেখে তার মোবাইল ফোন নিয়ে সেখান থেকে চলে যায় অভিযুক্তরা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিয়াম নামের আরেক তরুণ ঘটনার সময় সরাসরি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তিনি আশপাশে অবস্থান করে পাহারা দেওয়ার মতো কোনো ভূমিকা পালন করেছিলেন কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকাটি বেশ নির্জন। ফলে বাইরে থেকে সেখানে কী ঘটছে, তা সহজে বোঝার সুযোগ কম।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, অপ্রতিমের মরদেহে মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি আরও কিছু ক্ষত পাওয়া গেছে। এসব ক্ষতের কিছু মৃত্যুর পর তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
রাতে শিয়াল মরদেহটি টানাটানি করেছিল বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষতগুলোর প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এখন সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য, প্রত্যক্ষ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য এবং ফরেনসিক প্রতিবেদন মিলিয়ে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
মন্তব্য করুন