ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৫৫ মিনিট আগে, ০৬:১৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জাতিসংঘে স্বাস্থ্য এজেন্ডায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ৩৮ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ও ঝালকাঠির কৃতি সন্তান ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

 

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ ও সুইডেনের যৌথ আয়োজনে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্য এবং পেশাদার মিডওয়াইফারি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে তিনি প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করবেন।

 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তুলনামূলক ছোট ৩৮ সদস্যের প্রতিনিধিদল যাচ্ছে।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য—‘Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All’। বাংলাদেশের জন্য অধিবেশনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

স্বাস্থ্য খাতসংক্রান্ত বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হবে ২৪ সেপ্টেম্বরের সাইড ইভেন্ট ‘From Commitment to Action: Integrating Midwifery into Primary Health Care to End Preventable Maternal and Newborn Deaths’। বাংলাদেশ ও সুইডেন যৌথভাবে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ আয়োজন করছে; অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল—ইউএনএফপিএ। অনুষ্ঠানে পেশাদার মিডওয়াইফারি সেবাকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করে মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমানোর কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে।

উচ্চপর্যায়ের এ আয়োজনে এশিয়া, আফ্রিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য খাতের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্যানেল আলোচনায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পেশাদার মিডওয়াইফদের অর্থায়ন, নিয়োগ, কর্মস্থলে নিয়োজিত রাখা এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এ প্যানেল পরিচালনা করবেন ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য অঙ্গনে বাংলাদেশের এ উদ্যোগের পেছনে সাম্প্রতিক একটি বড় কর্মসূচিও রয়েছে। গত জুনে লিসবনে আন্তর্জাতিক ধাত্রী (মিডওয়াইফ) সম্মেলনে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ২৫ হাজার মিডওয়াইফ তৈরি ও নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানান। ইউএনএফপিএ এটিকে বাংলাদেশের মিডওয়াইফারি কর্মশক্তিতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ইউএনএফপিএর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে সরকারি ৬ হাজারের বেশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে মিডওয়াইফের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। দেশে মাতৃমৃত্যুর হার গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও গর্ভাবস্থা ও প্রসবজনিত প্রতিরোধযোগ্য কারণে এখনো প্রতিবছর প্রায় ৪ হাজার নারী মারা যান। নতুন কর্মসূচির লক্ষ্য হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে দক্ষ মিডওয়াইফের উপস্থিতি বাড়িয়ে নিরাপদ প্রসব ও মাতৃ-নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করা।

জাতিসংঘ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বৈষম্য, রোহিঙ্গা সংকট, টেকসই উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কর্মসূচিও রয়েছে।

ঝালকাঠির সন্তান ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারের জাতিসংঘের এ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যবিষয়ক আয়োজনে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর আগে আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফারি সম্মেলনেও বাংলাদেশের ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগের পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন তিনি। ফলে নিউইয়র্কের সাইড ইভেন্টে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও মিডওয়াইফারি ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও বিস্তৃতভাবে আলোচনায় আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

 

মন্তব্য করুন