তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৫৫ মিনিট আগে, ০৪:৪৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

তুহিনের ফোনে একের পর এক কল, বেরিয়ে এলো হত্যার আসল কারণ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার এক আসামির মোবাইল ফোনে আসা একের পর এক কলের সূত্র ধরে আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আইফোন নেওয়ার পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে বিরোধও হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারণ হতে পারে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বরে শিক্ষক সমিতির আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য জানান বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহাত শীলা।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের করা হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, শনিবার সকাল ৯টার দিকে তুহিনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। তখন অপ্রতিমের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ জানত না। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অপ্রতিমের মরদেহ পাওয়ার খবর আসে।

শুরুতে তুহিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে। পরে রাতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান। তবে অন্যদের নাম বলতে রাজি হয়নি সে। অন্যদের নাম প্রকাশ না করার জন্য সে ‘ওয়াদাবদ্ধ’ ছিল বলে জানায়।

এ সময় তুহিনের মোবাইল ফোনে একের পর এক কল আসছিল। অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোর ওই ফোনে কল করছিল। বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এলে ওই কিশোরকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। তার পরনে তখন অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানের নাম লেখা টি-শার্ট ছিল বলে জানানো হয়েছে।

পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একজনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের বাবার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ বিক্রির প্রতিষ্ঠান ইয়েসটেকে কাজ করত হেফাজতে নেওয়া ওই কিশোর। অপ্রতিম তাকে ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে জানা গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, টাকা ফেরত চাওয়ায় ওই কিশোর অপ্রতিমের ওপর বিরক্ত ছিল। অপ্রতিম মারা গেলে ধার নেওয়া টাকা ফেরত দিতে হবে না—এমন চিন্তা থেকেও হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

তবে এটি তদন্তসংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা; হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

ড. কামরুন নাহাত শীলা জানান, গ্রেপ্তার কিশোরটি অপ্রতিমের বাবার দোকানে ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে বিনা বেতনে কাজ শুরু করেছিল।

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে জানান তিনি। ওই ঘটনার সঙ্গে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানিয়েছেন নাহিদা বেগম।

ড. কামরুন নাহাত শীলার ভাষ্য, নাহিদা বেগম চান পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক—আগের ওই ঘটনার প্রতিশোধের জেরেই তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কি না।

গত শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। প্রায় ২২ ঘণ্টা পর শনিবার বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার কারণ এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।

মন্তব্য করুন