মোঃ ইমাম হোসাইন

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১০:০৬ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

পানামার দক্ষিণ উপকূলে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প

পানামার দক্ষিণ উপকূলে শুক্রবার বিকেলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ছয়টি প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর এক ডজনের বেশি পরাঘাত অনুভূত হওয়ায় আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় ও খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন বাসিন্দারা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭ দশমিক ৮ মাইল গভীরে। টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে, একের পর এক মৃদু কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় জড়ো হয়েছেন বাসিন্দারা। এ সময় কয়েকজন বয়স্ক মানুষকে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।

দক্ষিণ পানামার হেরেরা প্রদেশের ৭৪ বছর বয়সি বাসিন্দা রিকার্ডো ব্রাউন বলেন, ‘আমরা ভয়ে আছি। এখানে আমরা দুজন বয়স্ক মানুষ ছাড়া আর কেউ নেই। বাড়িতে ফাটল ধরেছে। ভয় হচ্ছে, এটি আমাদের ওপর ভেঙে পড়তে পারে।’

তিনি জানান, লাস মিনাস এলাকায় ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নাতুরগির তথ্য অনুযায়ী, পানামার ছয়টি প্রদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র টোকুমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর রাজধানী পানামা সিটিতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ভবনগুলোর সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বিভিন্ন অফিস থেকে কর্মীদের আগেভাগে ছুটি দেওয়া হয়। শহরটির মেট্রো রেল চলাচলও বন্ধ রাখা হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আগেভাগে ছুটি ঘোষণা করায় ইউনিফর্ম পরা শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায়। দেশজুড়ে শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন ভবন থেকে বহু মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের এ শহরে কম্পন থামার পরও অনেককে রাস্তায় ও কাছের পার্কগুলোতে অবস্থান করতে দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কারণে পানামার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ থেকে ১০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।

পানামার ভূবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক নেস্টর লুক জানান, আজুয়েরো-সোনা চ্যুতি ব্যবস্থার কারণে এ ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ চ্যুতি ব্যবস্থায় চাপ জমা হচ্ছিল। একপর্যায়ে সেই চাপ থেকে বিপুল শক্তি নির্গত হয়।

তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পের কম্পন পুরো ভূখণ্ডজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ কারণেই দেশের সর্বত্র এটি অনুভূত হয়েছে।’

লুক জানান, রাজধানী পানামা সিটিতে তিনি প্রায় ৪০ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভব করেছেন। তবে দেশের অন্য কিছু এলাকায় কম্পনের স্থায়িত্ব আরও বেশি হয়ে থাকতে পারে।

রাজধানীর একটি পুরোনো মার্কিন সামরিক আমলের ভবনের ষষ্ঠ তলায় থাকা সাবিনা রিওস বলেন, কম্পনটি ছিল অস্বাভাবিক শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী।

তিনি বলেন, ‘ভূমিকম্পটি খুব শক্তিশালী ছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়েছিল। কয়েক বছরের মধ্যে এত দীর্ঘ কম্পন আমি অনুভব করিনি।’

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের কাছে হেরেরা প্রদেশের কম জনবসতিপূর্ণ লা পিতালোজা এলাকার কাছাকাছি। প্রতিবেশী দেশ কোস্টারিকার রাজধানী সান হোসেতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন।

উৎপত্তিস্থল ও রাজধানী পানামা সিটির মাঝামাঝি অবস্থিত পেনোনোমে শহরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উঠে এসেছে। রয়টার্সের যাচাই করা ভিডিওতে একটি গির্জা ও আশপাশের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত এবং কিছু স্থাপনা ধসে পড়তে দেখা গেছে।

পানামার বেসামরিক সুরক্ষা সংস্থার প্রধান ওমর স্মিথ সংবাদমাধ্যম টেলিমেত্রো রিপোর্টাকে জানান, হেরেরা প্রদেশের রাজধানী চিত্রে এবং উপকূলীয় লস সান্তোস প্রদেশেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট সুনামির আশঙ্কা কেটে গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন আর সুনামির আশঙ্কা নেই।

আগামী সোমবার পানামায় দেশব্যাপী ভূমিকম্প মোকাবিলায় জরুরি সরিয়ে নেওয়ার মহড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করতেই এ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।

পানামার প্রেসিডেন্ট হোসে রাউল মুলিনো জানিয়েছেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় তার সরকারের সব বিভাগকে সক্রিয় করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা উচিত নয়।’

মন্তব্য করুন