তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ১০:০৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন জট, জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবি নিয়ে পুনর্বিবেচনা

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সচিব কমিটির সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন জটিলতায় প্রক্রিয়াটি থমকে গেছে।

জানা গেছে, জুডিশিয়াল সার্ভিসের আওতাভুক্ত কর্মকর্তারা বেতনের সমপরিমাণ (শতভাগ) ভাতা দাবি করেছেন। এই দাবিকে ঘিরে গেজেট প্রকাশের আগে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ফলে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদনের ওপর আবারও চূড়ান্ত পর্যায়ের বিশ্লেষণ শুরু করতে যাচ্ছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নবম পে-স্কেলের সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি এবং বিভিন্ন খাতের বেতন কাঠামোর ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে কমিশনের সুপারিশ এবং জুডিশিয়াল সার্ভিসের দাবিগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সম্ভাব্য বৈষম্য বা অসঙ্গতি দ্রুত সমাধানের কথাও বলা হয়েছে।

এদিকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নিচ্ছে সরকার। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আর্থিক সংকট এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাবের কারণে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়েও অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে।

সূত্র জানায়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি শিগগিরই বৈঠকে বসবে। যদিও ১২ আগস্ট নির্ধারিত বৈঠকটি সদস্যদের অনুপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠিত হয়নি। আসন্ন বৈঠকে কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশেষ করে বিচারকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কত অর্থ প্রয়োজন এবং সেই অর্থায়নের উপায় কী—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করে। সেখানে গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বৃদ্ধির প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন দুই ধাপে করার সুপারিশ রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক জটিলতায় এই পুরো প্রক্রিয়া এখন নতুন করে মূল্যায়নের মুখে পড়েছে।

মন্তব্য করুন