আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ১০:৩৮ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

জালিয়াতির অভিযোগ, চরম বিপাকে বিল গেটসের মেয়ে

এআই-চালিত শপিং স্টার্টআপ ‘ফিয়া’-কে ঘিরে ওঠা ‘কুকি স্টাফিং’ বিতর্কে বিল গেটসের মেয়ে ফিবি গেটসের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং দেওয়ানি মামলার মুখে পড়তে পারেন তিনি।

সাইবার আইন বিশেষজ্ঞ ও একটি ল’ ফার্মের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার স্টার ক্যাশম্যান জানান, ফেডারেল ওয়্যার জালিয়াতির আইনে সর্বোচ্চ দুই দশকের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, তা প্রয়োগের জন্য প্রসিকিউটরদের প্রমাণ করতে হবে—ফিবি গেটস ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, এটি কোনো সাধারণ ভুল বা অবহেলার ঘটনা হিসেবে গণ্য হবে না; বরং সুপরিকল্পিত প্রতারণা প্রমাণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মুহূর্তে ফিবি গেটস ও তার প্রতিষ্ঠান ‘ফিয়া’র জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো আর্থিক ক্ষতি। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে কমিশন, চুক্তি লঙ্ঘন, গোপনীয়তা এবং ভোক্তা অধিকার ইস্যুতে দেওয়ানি মামলা করতে পারে, যার ফলে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হতে পারে।

‘ফিয়া’ একটি এআই-চালিত শপিং প্ল্যাটফর্ম, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাদের কনজ্যুমার অ্যাপ ও ব্রাউজার এক্সটেনশন চালু করে। ফিবি গেটস ও স্ট্যানফোর্ডের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সোফিয়া কিয়ানি যৌথভাবে এটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, ফিয়ার ব্রাউজার এক্সটেনশন ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাফিলিয়েট ট্র্যাকিং কুকি বসিয়ে দিত। ফলে ব্যবহারকারীরা কোনো পণ্য না কিনলেও প্রতিষ্ঠানটি বিক্রির কৃতিত্ব দাবি করতে পারত—যা প্রযুক্তি জগতে ‘কুকি স্টাফিং’ নামে পরিচিত। এতে নাইকি, নর্ডস্ট্রম ও গ্যাপের মতো প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কোম্পানির অভ্যন্তরীণ বার্তা ও সোর্স কোডে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, এই স্বয়ংক্রিয় কুকি ব্যবস্থার বিষয়টি প্রতিষ্ঠাতারা আগেই জানতেন। যদিও ‘ফিয়া’ এসব অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করেছে এবং এখনো তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনো ফৌজদারি মামলা হয়নি।

আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের বিরোধ সাধারণত চুক্তিভিত্তিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলার বদলে দেওয়ানি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোম্পানির কমিশন বাতিলসহ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিতর্কিত ফিচারগুলো বন্ধ করার পর ফিয়ার গড় দৈনিক আয় ৮০ হাজার ডলার থেকে কমে ১০ হাজার থেকে ২৮ হাজার ডলারে নেমে এসেছে বলে জানা গেছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের আয়ের প্রধান উৎসগুলো বন্ধ করায় এই পতন ঘটেছে।

সব মিলিয়ে, ‘কুকি স্টাফিং’ বিতর্কে ফিবি গেটসের জন্য ফৌজদারি শাস্তির ঝুঁকি কম হলেও আইনি ও আর্থিক চাপের সম্ভাবনা এখনো বহাল রয়েছে।

মন্তব্য করুন