প্রকাশিত: ৪৯ মিনিট আগে, ০৪:৩৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বর্তমানে সংঘটিত অনেক অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, শুধু অপরাধ সংঘটনের পর অপরাধীকে গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দিয়ে অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের পেছনের মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধকে একটি উপসর্গ হিসেবে দেখতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধের মূল কারণ অন্য জায়গায় থাকে। সমাজকে বিশ্লেষণ ও গবেষণার মাধ্যমে অপরাধের কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অপরাধের হার কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, গুরুতর অনেক অপরাধের সঙ্গে মাদকাসক্তি ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য অপরাধও কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট গঠনের উদ্যোগ
বর্তমানে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসে অপরাধের বিস্তার বাড়ছে। ফলে অপরাধ শনাক্তকরণে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণের গুরুত্বও বেড়েছে।
পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে শিগগিরই আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট ও ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা পর্যায়েও ইউনিট গঠন এবং থানা ও উপজেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায়ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
নতুন অপরাধ মোকাবিলায় আইন সংশোধনের প্রয়োজন
অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আইনেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা দরকার বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, পুরোনো আইন দিয়ে সব সময় নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না।
অনলাইন ও সাইবার স্পেসে জুয়ার বিস্তারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বিদ্যমান আইনও সংশোধন করতে হবে। কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন দুর্বল হলে গ্রেফতারের পরও আসামির দ্রুত জামিন বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই অপরাধের ধরন ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনি সংস্কার প্রয়োজন।
ঝুঁকিপূর্ণ ক্রাইম রিপোর্টিংয়ে সাংবাদিকদের সহায়তার উদ্যোগ
ক্রাইম রিপোর্টিং করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ঝুঁকির মুখে পড়লে তাদের সহায়তায় সরকারি বা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আওতায় কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা সরকারিভাবে চেষ্টা করা হবে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ঝুঁকি নিয়ে ক্রাইম রিপোর্টিং করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক ক্ষতিগ্রস্ত বা আহত হলে সরকারি কিংবা সিএসআর প্রকল্পের মাধ্যমে তাদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
ক্রাইম রিপোর্টিংকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকদেরও প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়াতে হবে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আইন প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ, বিচারব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ক্রাইম রিপোর্টারদের জন্য সনদ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খান, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ।
মন্তব্য করুন