মশিউর রহমান সেলিম

প্রকাশিত: ১০ ঘন্টা আগে, ১২:১৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কুমিল্লায় জলাবদ্ধতায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে

ছবি: মশিউর রহমান সেলিম

 

কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তর লাকসামের লালমাই, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলাসহ লাকসাম এবং নাঙ্গলকোট পৌর শহরে গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে গ্রামের নিম্নাঞ্চলে মারাত্মক জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মধ্য শ্রাবণ মাসে এসে সপ্তাহ ব্যবধানে এ দুর্যোগে এ অঞ্চলের সার্বিক জনচলাচল অচল হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির এবং তার ওপর আকস্মিক জলাবদ্ধতা মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলায় মানুষ শঙ্কায় পড়েছে। ৪টি উপজেলাসহ ২টি পৌর শহরের নিম্নাঞ্চল প্রায় সময়ই মারাত্মক জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত থাকে। এ অঞ্চলের একমাত্র ডাকাতিয়া নদীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক খাল জবরদখলসহ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নামার কোনো জায়গা নেই। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে লালমাইয়ের ৮টি, নাঙ্গলকোটের ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা, মনোহরগঞ্জের ১১টি ইউনিয়ন ও লাকসাম উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডসহ ৪টি উপজেলার প্রায় শতাধিক গ্রামের নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে এবং আগাম শীতকালীন শাকসবজি মারাত্মক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলাগুলো ও ২টি পৌর শহরের সড়কপথগুলো এখনো খানাখন্দে ভরা, তবে একাধিক সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। ময়লা-আবর্জনা শহরের অলিগলিসহ এলাকার পরিবেশকে বেসামাল করে তুলেছে। নতুন-পুরাতন ডাকাতিয়া নদীসহ সংযোগ খালগুলো এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম। বিশেষ করে এ অঞ্চলের চাইলতাতলী, ঘাগৈর, বেরুলা, কার্জন, মেল্লা, বাকই খাল, বিজরা, বাগমারা, বুশ্চি, বাঙ্গড্ডা, হরিপুর, দোলখাঁ, জোড্ডা, বক্সগঞ্জ, কুচাইতলী ও ছিলনিয়া খালের অবস্থা বর্তমানে অস্তিত্বসংকটে। ওই সব খাল জবরদখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানিপ্রবাহ গতিহীন। তার ওপর ময়লা-আবর্জনাসহ বিষাক্ত পানি জলাবদ্ধ হয়ে এ অঞ্চলের বিশুদ্ধ পানি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে এবং নানা রোগের আতঙ্কে রয়েছে সকল পেশার মানুষ। ইতোমধ্যে খালের ওপর ব্রিজ ও কালভার্টগুলোর প্রবেশপথ ভরাট হয়ে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া বিগত সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করাকে এ জলাবদ্ধতার মূল কারণ বলে অভিমত সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের। পৌর শহর দুটিতে অবকাঠামো, ড্রেন, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এ অঞ্চলবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়নি।

জেলার জলাখ্যাত ৪টি উপজেলায় প্রায় ২০ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। প্রতি বছর এলাকার মানুষকে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জবরদখলকারী ও নদী-খাল ভরাট নিরসনে নীরব দর্শক। আষাঢ় মাস থেকে মধ্য শ্রাবণ পর্যন্ত হঠাৎ প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে জেলা দক্ষিণাঞ্চলের ৪টি উপজেলাসহ ২টি পৌর শহরের কোথাও কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় পানি আটকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা দক্ষিণাঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা মুখ খুলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তবে এ এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং বন্যা-উত্তর পুনর্বাসন প্রকল্প হাতে নিতে হলে কয়েক শ কোটি টাকা প্রয়োজন; কিন্তু বর্তমানে তা ৪টি উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে নেই।

 

মন্তব্য করুন