সংগৃহিত ছবি

প্রকাশিত: ৭ ঘন্টা আগে, ০২:০৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব, মুখ খুললেন আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী

বলিউড বা বিনোদন জগতের অন্ধকার দিক হিসেবে পরিচিত কাস্টিং কাউচ নিয়ে এবার নীরবতা ভাঙলেন ভারতীয় অভিনেত্রী আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী। ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিকে ঘটে যাওয়া একটি অস্বস্তিকর ও অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার কথা সম্প্রতি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আকাঙ্ক্ষা জানান, তার অভিনয় জীবনের প্রথম দিকে একটি বিউটি পেজেন্টে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজন ছিল ১ থেকে ২ লাখ রুপি। কিন্তু পোশাক, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা তখন তার পরিবারের ছিল না।

এই সংকট মোকাবিলায় তিনি পেজেন্ট জগতের পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। সেই সাহায্য চাওয়াই পরবর্তীতে তার জন্য অস্বস্তিকর এক পরিস্থিতির জন্ম দেয়।

আকাঙ্ক্ষা জানান, প্রয়োজনীয় অর্থের বিনিময়ে তিনি ওই ব্যক্তির অধীনে কিছুদিন কাজ করতেও রাজি হয়েছিলেন। এরপর তাকে ওই ব্যক্তির বাসভবনে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়। আগে থেকেই সেখানে যাতায়াতের অভিজ্ঞতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো সন্দেহ করেননি।

কিন্তু সেদিনের ঘটনা মোড় নেয় ভিন্নদিকে। নিজের ভাষায় সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে আকাঙ্ক্ষা বলেন, ‘আমি পৌঁছানোর পর তিনি প্রথমে আমাকে জড়িয়ে ধরতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু আলিঙ্গনের বদলে আমাকে ধাক্কা দিয়ে জোর করে ধরে ফেলেন। তিনি বয়স্ক ছিলেন। তাই আমি তার হাত সরিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিই। এরপর ওই ব্যক্তি আমাকে বলেন, তুমি যদি আরও আগে আমার কাছে আসতে, তাহলে ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক বড় হতে পারতে।’

এখানেই থামেননি ওই ব্যক্তি। অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, আর্থিক সহায়তার শর্ত হিসেবে তাকে একটি লজ্জাজনক প্রস্তাব দেওয়া হয়, শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের বিনিময়ে অর্থ প্রদান, এমনকি মাসে কতবার এই সম্পর্ক রাখতে হবে তারও একটি নির্দিষ্ট শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি আগেভাগে অনুমান করতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করে আকাঙ্ক্ষা বলেন, ‘আমি যদি তার আসল উদ্দেশ্য জানতাম, তাহলে কখনো দেখা করতে যেতাম না। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ওই ব্যক্তি আমাকে বলেছিলেন, দুই বছরের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি অনুতপ্ত হবেন।’

তবে সেই মুহূর্তে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে আজও কোনো আক্ষেপ নেই অভিনেত্রীর। বরং নিজের অর্জিত সাফল্যকেই তিনি তুলে ধরেন জবাব হিসেবে। তিনি বলেন, ‘সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আমার কোনো আফসোস নেই। ছয় মাস পর আমি একটি বড় শোয়ের অংশ হই। আর এক বছরের মধ্যেই দেশের অন্যতম বড় একটি মঞ্চে দাঁড়াই। আমার সাফল্য ও পরিচিতি সম্পূর্ণ নিজের পরিশ্রমের ফল।’

এই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী। ফলে এ পর্যন্ত অভিযুক্তের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।

মন্তব্য করুন