প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ১১:৩৬ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ভারতের মুম্বাইয়ে রাজনৈতিক আন্দোলন থেকে প্রেমিক ইমরান খানের সঙ্গে আটক হওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী ও শিল্পী লেখা ওয়াশিংটন। ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আন্দোলন চলাকালে তাঁদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে এই ঘটনা শুধু ইমরান খানকে ঘিরেই নয়, লেখা ওয়াশিংটনের ব্যক্তিগত জীবন, অভিনয় এবং শিল্পচর্চা নিয়েও নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি মডেল ও ভিডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছেন লেখা। একই সঙ্গে নকশা ও শিল্পচর্চায় গড়ে তুলেছেন স্বতন্ত্র পরিচয়। অভিনয়ের বাইরেও তাঁর সৃজনশীল কাজ তাঁকে আলাদা করে পরিচিত করেছে।
লেখা ওয়াশিংটনের জন্ম ১৯৮৭ সালের ৩০ এপ্রিল। তাঁর বেড়ে ওঠার বড় একটি অংশ কেটেছে ভারতের তামিলনাড়ুতে। ছোটবেলা থেকেই চারুকলা, নকশা ও শিল্পের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর।
লেখা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডিজাইনে পড়াশোনা করেছেন। সেখানে লাইফস্টাইল পণ্য নকশা নিয়ে পড়ার পর চলচ্চিত্র ও ভিডিও যোগাযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেন। কর্মজীবনের শুরু মডেল ও ভিডিও জকি হিসেবে। পরে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন।
তামিল ও তেলুগু ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান লেখা। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘জয়মকোন্ডান’, ‘ভেদাম’ ও ‘ভা’। হিন্দি সিনেমা ‘মাতৃ কী বিজলি কা মণ্ডোলা’তেও অভিনয় করেছেন তিনি। এই ছবিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন ইমরান খান।
তবে অভিনয়ই লেখার একমাত্র পরিচয় নয়। নকশা ও শিল্পচর্চায় নিজের জায়গা তৈরি করতে চেয়েছেন তিনি। তৈরি করেছেন ব্যতিক্রমী আসবাব, ভাস্কর্য ও বিভিন্ন ধরনের শিল্পকর্ম। তাঁর নকশায় ব্যবহারিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিশেছে কল্পনাপ্রবণতা।
২০১৪ সালে নিজের জীবনধারাভিত্তিক ব্র্যান্ড ‘আজ্জি—দ্য অড প্রোডাক্ট কোম্পানি’র কাজ নিয়েও আলোচনায় আসেন লেখা। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডায় অনুষ্ঠিত বার্নিং ম্যান উৎসবের জন্য দ্বিতীয় চাঁদের আদলে একটি বড় শিল্পস্থাপনা তৈরির অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। এ কাজের মধ্য দিয়ে শিল্পী হিসেবে তাঁর সৃজনশীলতার আরেকটি দিক সামনে আসে।
ইমরান খানের সঙ্গে লেখার সম্পর্ক নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই আলোচনা রয়েছে। ২০২৪ সালে ‘ভোগ ইন্ডিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান তাঁদের প্রেমের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন।
ইমরানের ভাষ্য অনুযায়ী, করোনাকালের লকডাউনের সময় তাঁদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তখন ইমরান ও তাঁর সাবেক স্ত্রী অবন্তিকা মালিকের বিচ্ছেদ হয়েছিল। একই সময়ে লেখাও তাঁর আগের সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন।
ইমরান ও অবন্তিকার বিয়ে হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০১৯ সালে তাঁরা আলাদা হয়ে যান। তাঁদের একটি মেয়ে রয়েছে, নাম ইমারা। একাধিক সাক্ষাৎকারে ইমরান বলেছেন, তাঁর মেয়ে ও প্রেমিকা তাঁর জীবনে ভালোবাসা, মানসিক শক্তি ও ব্যক্তিগত বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইমরানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির শিকার হন লেখা। তাঁদের আন্তধর্মীয় সম্পর্ক ঘিরে কেউ কেউ বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে মানিকন্ট্রোলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লেখা বলেন, তাঁর ছবি ব্যবহার করে ঘৃণা ও বিভাজন ছড়ানোর চেষ্টা তাঁর মূল্যবোধের সম্পূর্ণ বিপরীত।
লেখার বক্তব্য ছিল, একজন নারীকে তাঁর কাছের পুরুষটির পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করে ফেলা সমাজের একটি বড় সমস্যা। অভিনয়ে প্রায় এক দশক কাজ করার পর তিনি সেই জগৎ থেকে সরে এসে শিল্পচর্চায় মনোযোগ দিয়েছিলেন।
নিজের আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে পরবর্তী এক দশক ধরে শিল্পচর্চা ও সৃজনশীল উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর এই বক্তব্যে ব্যক্তিগত পরিচয় ও স্বাধীনতার প্রশ্নটি গুরুত্ব পেয়েছে।
১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে আয়োজিত আন্দোলন ঘিরে আটক হন ইমরান ও লেখা। আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনপ্রক্রিয়া এবং ভোটার নিবন্ধনের নিয়ম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়েছিল।
আটক হওয়ার আগে ইমরান সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, তিনি কোনো সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন নাগরিক হিসেবে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা কেন সীমিত করা হচ্ছে এবং মানুষের কণ্ঠ কেন রোধ করা হচ্ছে, তা বুঝতেই তাঁর সেখানে যাওয়া।
পরে পুলিশের গাড়িতে বসা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে রসিকতা করে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, গাড়িতে ঘুরতে যাচ্ছি।’
লেখাও পুলিশের গাড়ি থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁদের আটক হওয়ার কথা জানিয়ে কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা অনুসারীদের জানানোর চেষ্টা করেন। এই ঘটনার পর অভিনয় ও শিল্পচর্চার পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণেও নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে
মন্তব্য করুন