মোঃ ইমাম হোসাইন

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবার, ২০২৬, ০৩:৫৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে দিল্লিতে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখা এবং জনসাধারণের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিচারপতি ভি মোহনার বিশেষ বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।

বিচারপ্রার্থীরা যাতে ন্যায়বিচারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালত চত্বরের আশপাশে জারি করা বিধিনিষেধমূলক নোটিশ প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শনিবারের বিক্ষোভের আগে গণ-আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ, ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা এবং পরিবহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আদালতের ৯ অক্টোবরের নির্দেশ অমান্য করা হয়েছে—এমন অভিযোগের পর জরুরি শুনানি শেষে এসব আদেশ দেওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছেন, সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদের আওতায় জনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে বিধিনিষেধ আরোপ করা জরুরি না হলে মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিকভাবে চালু রাখতে হবে।

আইন মেনে শহরে মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন অনুযায়ী ইন্টারনেট পরিষেবা অব্যাহত রাখতে হবে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বিশেষ করে ‘ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার’ ১৬৩ ধারার অধীনে জারি করা নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত এলাকায় শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র সমাবেশের ক্ষেত্রে এ নির্দেশ প্রযোজ্য হবে।

আদালত অবমাননার অভিযোগে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন, সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষ এবং দিল্লি পুলিশকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত ৯ অক্টোবরের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগের বিষয়ে তাদের জবাব চাওয়া হয়েছে।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে দাবি করেন, শনিবার মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিকভাবেই চলেছে। তবে নেটওয়ার্কের ৩০৩টি স্টেশনের মধ্যে ৪৫টিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্টেশনগুলোর বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ। কর্তৃপক্ষকে মঙ্গলবারের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মামলাটি ১৩ অক্টোবর শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাতে কোনো সংশয় বা ভীতি তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সুপ্রিম কোর্ট চত্বর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে বলেছে আদালত।

মন্তব্য করুন