প্রকাশিত: ৭ অক্টোবার, ২০২৬, ১১:৩৩ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইসরায়েলে গভীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন দেশটিকে গৃহযুদ্ধ বা রাষ্ট্রীয় পতনের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে একটি গোপন মূল্যায়নে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ। তবে মূল্যায়নটি প্রকাশ্যে আসেনি; এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে দুই মার্কিন সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে।
‘ফ্র্যাকচার ফ্রম ইনউইদিন’ শিরোনামের ওই মূল্যায়নটি গত আগস্টে সিআইএর রেড সেল প্রস্তুত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রেড সেল সিআইএর এমন একটি বিশ্লেষণী ইউনিট, যার কাজ প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে বিকল্প পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে ইসরায়েলে একাধিক সংকট একই সঙ্গে তীব্র হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক চাপ, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, দীর্ঘদিনের যুদ্ধে ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সেনাদের ফিরে আসা এবং কট্টরপন্থি অর্থোডক্স ইহুদি পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি নিয়ে ক্ষোভ।
গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধের পাশাপাশি লেবানন ও ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতও ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরও বাড়িয়েছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং সামরিক নিয়োগ নিয়ে বিরোধও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার প্রচেষ্টাকেও সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতার একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত একটি মার্কিন সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে একটি ছোট ঘটনা বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে। তবে এটি কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়; বরং সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পরিস্থিতি নিয়ে গোয়েন্দা বিশ্লেষণ।
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও ইসরায়েলের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে বলে মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন কমে আসাকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে।
তবে ড্রপ সাইট নিউজের প্রতিবেদনের বিষয়ে সিআইএ কোনো মন্তব্য করেনি। একই সঙ্গে গোপন মূল্যায়নটির মূল নথি প্রকাশ্যে না আসায় এর পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, পদ্ধতি ও প্রমাণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন