প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে, ০৭:১১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত শৈশব, নৈতিক, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি জানান, এ উপলক্ষে ৬ থেকে ৮ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে শিশুদের সার্বিক বিকাশ অপরিহার্য। তবে শিশুশ্রম, সামাজিক সহিংসতা, বাল্যবিয়ে ও বৈষম্যের মতো চ্যালেঞ্জ এখনো বিদ্যমান। এসব সামাজিক ব্যাধি দূর করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি শিশু একেকটি ফুল এবং আগামী দিনের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা। আজকের শিশুর মধ্যেই ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক, অভিভাবক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী কিংবা দেশের চালিকাশক্তি লুকিয়ে রয়েছে। তাই সঠিক যত্ন, স্নেহ ও শিক্ষার মাধ্যমে শিশুদের গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, নিষ্পাপ শিশুদের হাসিমাখা মুখ নতুন বাংলাদেশের আশা ও অসীম সম্ভাবনার প্রতীক। প্রতিটি শিশুর সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকশিত করার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া নৈতিক, সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শিশুদের কল্যাণ ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ১৯৭৮ সাল থেকে ‘জাতীয় শিশু পুরস্কার’ প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে। শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি জানান।
শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা ও তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বাণীতে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার আইপিইসি প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষায় তাঁর ভূমিকা অনন্য।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ক্রীড়া, শিল্প-সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশকে বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শিশু অধিকার দিবসের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিশু একাডেমির গৌরবময় সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে। এই আয়োজন শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদের স্বপ্ন ও সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী নতুন স্বপ্নে জাগ্রত হওয়ার এবং নতুন মানবিক অভিযাত্রার পথপ্রদর্শক হবে। শিশুর নির্মল হাসি, সুপ্ত স্বপ্ন ও সাফল্যের মধ্য দিয়ে আগামী দিনের নিরাপদ, সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।
শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষে দেশের সব শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিশুকল্যাণে নিয়োজিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দিবস ও সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
মন্তব্য করুন