বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবার, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

এআই ডিপফেইক নিয়ে মুখ খুললেন জাহ্নবী, বললেন ‘যৌন নিপীড়নের শামিল’

‘দেভারা: পার্ট ওয়ান’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘ছুট্টামালে’-র ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিকৃত করার ঘটনায় মুখ খুলেছেন বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে উপস্থাপনের প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, বিনা অনুমতিতে এ ধরনের কাল্পনিক কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া গভীরভাবে আঘাত করে এবং তা একপ্রকার যৌন নিপীড়নের শামিল।

সম্প্রতি এক দীর্ঘ বিবৃতিতে জাহ্নবী বলেন, ‘নারীদের যৌনবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করতে এবং অনুমতি ছাড়া কাল্পনিক কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে প্রযুক্তির অপরাধমূলক অপব্যবহার করা হচ্ছে। এটি গভীরভাবে আত্মমর্যাদায় আঘাত করে, যা যৌন নিপীড়নের কাছাকাছি। আমার ইন্ডাস্ট্রির প্রায় প্রতিটি নারীই এ ধরনের কোনো না কোনো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন এবং বিশ্বজুড়ে নারীরা ক্রমবর্ধমানভাবে এর শিকার হচ্ছেন।’

সম্মতি বা কনসেন্টের বিষয়টি নিয়ে কোনো জটিলতা থাকা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সম্মতি, পছন্দ এবং একজন নারীর শরীরের প্রতি সম্মান—এগুলো মানবতার সবচেয়ে মৌলিক বিষয়গুলোর মধ্যে থাকা উচিত। অথচ কোনো এক অদ্ভুত কারণে এগুলোকে এখনো জটিল বলে মনে করা হয়। আসলে এগুলো মোটেও জটিল কিছু নয়।’

পোশাক বা অতীতের সম্মতির প্রসঙ্গ টেনে কোনো নারীর ব্যক্তিগত সীমানা লঙ্ঘনের অধিকার কারও নেই বলেও মন্তব্য করেন জাহ্নবী। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যিই অবাক করার মতো বিষয় যে, কিছু মানুষের কাছে এটি বুঝতে পারা এখনো খুব সূক্ষ্ম একটি ব্যাপার বলে মনে হয় যে—একজন নারী যদি পরপর পাঁচ দিন সম্মতি দেন এবং ষষ্ঠ দিন ‘না’ বলেন, তবে সেই ‘না’-কে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। তিনি যদি একটি মিনিস্কার্ট পরে থাকেন, তবে এর অর্থ এই নয় যে কেউ তার স্কার্টের নিচে ক্যামেরা ধরার, আপত্তিকর কোণ থেকে ছবি তোলার বা তার শরীরকে দৃশ্যগতভাবে হেনস্তা করার অনুমতি পেয়ে গেছে।’

জাহ্নবীর মতে, সমস্যাটি শুধু তাকে নিয়ে তৈরি এআই ভিডিওতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি নারীদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত সীমানা এবং সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বৃহত্তর উদ্বেগের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ‘গত কয়েক দিনে আমি যে এআই ভিডিওগুলোর মুখোমুখি হয়েছি বা আমার পুরো ক্যারিয়ারে ব্যক্তিগতভাবে যা অনুভব করেছি, এটি তার চেয়েও অনেক বড় বিষয়। এটি একজন নারী হিসেবে বেঁচে থাকার বৃহত্তর বাস্তবতা, সমাজের আড়চোখে তাকানো, বিচারবুদ্ধি জাহির করা, নিরাপত্তার জন্য অবিরাম দরকষাকষি করা এবং এই অনুভূতির সঙ্গে জড়িত যে আমাদের সীমানাগুলো এখনো ব্যাখ্যার জন্য উন্মুক্ত রয়ে গেছে। এই হুমকি এখন ডিজিটাল জগতেও ছড়িয়ে পড়েছে, অথচ নারীদের দৈনন্দিন জীবনকে ওলোটপালট করে দেওয়া বাস্তব ও শারীরিক ভয়ের বিষয়টিরই আমরা এখনো সুরাহা করতে পারিনি।’

নারীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সীমানা নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তনের আহ্বান জানান জাহ্নবী। তাঁর ভাষ্য, এর সমাধান শুধু ‘তোমার মেয়েকে রক্ষা করো’—এমন বার্তায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; অন্যের সীমানা লঙ্ঘনের অধিকার কারও নেই—এই মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে নৈতিক অবস্থান নেওয়া পুরুষদের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ভিডিওটির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য ‘দেভারা’ সিনেমার সহশিল্পী জুনিয়র এনটিআরকে ধন্যবাদ জানান জাহ্নবী।

যা ঘটেছিল

জাহ্নবী কাপুর ও জুনিয়র এনটিআর অভিনীত ‘ছুট্টামালে’ গানের ফুটেজ ব্যবহার করে এআই দিয়ে তৈরি একটি ডিপফেইক ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ভিডিওটিতে ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে জাহ্নবীকে যৌনতাপূর্ণ ও অবমাননাকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

মন্তব্য করুন