তাহিরপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৭:০৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কৃত্রিম আলো নয়,চাঁদের আলোতেই টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য

চাঁদ যখন ধীরে ধীরে রাতের আকাশে উঠে আসে, হাওরের জল তখন যেন তার জন্য আয়না হয়ে যায়।জোৎস্নার নরম আলোয় রুপালি হয়ে ওঠে বিস্তীর্ণ জলরাশি,আর হিজল-করচ বনের গাঢ় ছায়া মিশে যায় রাতের নীরবতায়।কোনো কৃত্রিম আলো নেই, নেই উৎসবের কোলাহল—শুধু প্রকৃতির নিজস্ব আলোয় টাঙ্গুয়ার হাওর হয়ে ওঠে অপার সৌন্দর্যের এক জীবন্ত ছবি।

গতরাতে টাঙ্গুয়ার হাওরে ভেসে উঠেছিল ঠিক এমনই এক দৃশ্য। মনে হচ্ছিল,চাঁদ শুধু আকাশে নেই—তার আলো যেন নেমে এসেছে হাওরের জলে। বাতাসের সামান্য দোলায় জলের ওপর ভেঙে ভেঙে যাচ্ছিল চাঁদের প্রতিবিম্ব। দূরে হিজল-করচ বনের ছায়া,মাঝেমধ্যে নৌকার মৃদু শব্দ—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছিল এক অপার্থিব রাত।

এ সৌন্দর্যের জন্য কোনো আলোকসজ্জার প্রয়োজন হয়নি। মাইকের শব্দ কিংবা কৃত্রিম আলো দিয়ে রাতকে সাজানোরও প্রয়োজন পড়েনি। বরং নীরবতা যত গভীর হয়েছে, হাওরের সৌন্দর্য ততই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পরিবেশকর্মী ও ইক্যু-ট্যুরিস্ট গাইড অখিল তালুকদার বলেন,টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য তার স্বাভাবিক পরিবেশেই। জোৎস্নার রাতে এখানে বাড়তি কোনো আলোকসজ্জা,উচ্চ শব্দ বা কৃত্রিম আয়োজনের প্রয়োজন নেই।হাওরের নীরবতা, পানিতে চাঁদের প্রতিচ্ছবি আর হিজল-করচ বনের ছায়াই পর্যটকদের মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ট। তবে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে কেউ যেন প্লাস্টিক, ময়লা-আবর্জনা কিংবা অতিরিক্ত শব্দের মাধ্যমে হাওরের পরিবেশ নষ্ট না করেন। প্রকৃতিকে উপভোগ করতে হলে আগে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হবে এবং তার স্বাভাবিকতা রক্ষা করতে হবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য,দিনের টাঙ্গুয়ার হাওর আর জোৎস্নার রাতের টাঙ্গুয়ার হাওর যেন দুই ভিন্ন রূপ। দিনের ব্যস্ততা ও নৌযানের আনাগোনা পেরিয়ে রাত যখন শান্ত হয়ে আসে,তখন হাওরের সৌন্দর্য আরও গভীরভাবে অনুভব করা যায়।

পরিবেশ সচেতনদের মতে,টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য শুধু জলের বিস্তীর্ণতা কিংবা চাঁদের আলোয় সীমাবদ্ধ নয়।হিজল-করচ বন,মাছ, পাখি, জলজ উদ্ভিদ এবং হাওরপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা—সবকিছু মিলেই এই জলাভূমির স্বাভাবিক সৌন্দর্য। তাই পর্যটনের নামে অতিরিক্ত শব্দ, কৃত্রিম আলো, প্লাস্টিক ও বর্জ্য দিয়ে পরিবেশের স্বাভাবিকতা নষ্ট করা উচিত নয়।

হাওরপাড়ের মানুষের কাছে টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়;এটি তাদের জীবন,জীবিকা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি প্রাকৃতিক সম্পদ।এই হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি তার স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও তাই সবার।

জোৎস্নার রাতে টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে আসা মানুষের জন্য সবচেয়ে সুন্দর আয়োজন হতে পারে কোনো আয়োজন না করা। শুধু নীরবে বসে চাঁদের আলো দেখা,জলের শব্দ শোনা আর প্রকৃতিকে তার নিজের মতো থাকতে দেওয়া।কারণ টাঙ্গুয়ার হাওরের সৌন্দর্য সাজানো নয়,স্বাভাবিক।এখানে আলো ধার করতে হয় না—আকাশের চাঁদই যথেষ্ট।কৃত্রিম আলো নয়, চাঁদের আলোতেই টাঙ্গুয়ার হাওর তার সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে সুন্দর রূপে ধরা দেয়।

মন্তব্য করুন