প্রকাশিত: ৫১ মিনিট আগে, ০৭:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে পণ্যবাহী যানবাহনের পার্কিং ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড। মহাসড়কের ওপর সারি সারি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকা, যত্রতত্র অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং ফুটপাত দখলের কারণে বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সরেজমিনে হোতাপাড়া, ফুওয়াং টাইলস মার্কেট, নৌলাপাড়া, ভবানীপুর, মেম্বার বাড়ি, বাঘেরবাজার ও নতুন বাজার এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহন পার্কিংয়ের চিত্র দেখা গেছে। কোথাও ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে গাড়ি, কোথাও আবার মহাসড়কের অংশই ব্যবহার করা হচ্ছে পার্কিং হিসেবে।
মেম্বার বাড়ি এলাকায় প্যারাগন ফিড মিলের প্রায় শতাধিক পণ্যবাহী গাড়ি দাঁড়িয়ে মহাসড়কের ওপর থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ সময় এসব গাড়ি অবস্থান করায় মহাসড়কের একটি অংশ কার্যত পার্কিং এলাকায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অন্যদিকে বিভিন্ন বাজার এলাকায় মহাসড়কের ওপর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। পেছন থেকে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক বা অন্যান্য যানবাহন এলে হঠাৎ গতি কমাতে হচ্ছে চালকদের। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সড়ক ব্যবহারকারীরা।
নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চলছে কীভাবে?
মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলার চলাচল নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ও আইনগত বিধিনিষেধের কথা বলা হলেও বাস্তবে গাজীপুর অংশের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব যানবাহনের অবাধ চলাচল দেখা যাচ্ছে। শুধু চলাচলই নয়, মহাসড়কের ওপরই গড়ে উঠেছে একাধিক অস্থায়ী স্ট্যান্ড।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—নিষেধাজ্ঞা থাকলে এসব যানবাহন মহাসড়কে ঢুকছে কীভাবে? নিয়মিত একই স্থানে স্ট্যান্ড বসানো এবং যাত্রী ওঠানামা করলেও তা বন্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন?
‘পার্কিংয়ের জায়গা নেই’
মহাসড়কের পাশে পণ্যবাহী গাড়ি রাখার বিষয়ে কয়েকজন চালক জানান, নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই সড়কের পাশে গাড়ি রাখতে হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, নির্দিষ্ট পার্কিং না থাকলে মহাসড়ককে বিকল্প পার্কিং হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ কে দিচ্ছে? দিনের পর দিন একই স্থানে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও ব্যবস্থা কতটা কার্যকর—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নজরদারি আছে, তবু নিয়ন্ত্রণ নেই কেন?
সালনা হাইওয়ে পুলিশের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়ক অংশে নিয়মিত পার্কিং ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার পর সাময়িক অভিযান চালানোর পরিবর্তে নিয়মিত নজরদারি ও স্থায়ী ব্যবস্থা প্রয়োজন।
সড়ক ব্যবহারকারীদের প্রশ্ন, মহাসড়কের ওপর দিনের পর দিন পণ্যবাহী গাড়ি পার্কিং করে রাখা হলে তা সংশ্লিষ্টদের নজরের বাইরে থাকে কীভাবে? একইভাবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও থ্রি-হুইলার কীভাবে নিয়মিত মহাসড়কে চলাচল করছে?
হাইওয়ে পুলিশের বক্তব্য;-
সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাহাবুর রহমান জানান, অবৈধ পার্কিং ও অটোরিকশার বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে লোকবল সংকটের কারণে কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
তিনি বলেন, একদিকে অভিযান কার্যক্রম পরিচালনা করলে অন্যদিকে আবার গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে এবং অটোরিকশা চলাচল করছে। পণ্যবাহী গাড়ির পার্কিং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সড়ক বিভাগকে দায়িত্ব নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযান ও নজরদারি নিয়মিত চলার পরও একই স্থানগুলোতে যদি আবার পার্কিং ও অবৈধ স্ট্যান্ড ফিরে আসে, তাহলে এর স্থায়ী সমাধান হবে কবে?
সড়ক ব্যবহারকারীদের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটার পর সাময়িক অভিযান নয়—মহাসড়কের জায়গা দখল করে পার্কিং, অবৈধ স্ট্যান্ড এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধে সমন্বিত ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য নির্দিষ্ট পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে মহাসড়কের ওপর পার্কিংয়ের চাপও কমবে।
মন্তব্য করুন