তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৫২ মিনিট আগে, ১১:৩১ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা মামলার হাইকোর্টের রায় পিছাল

মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণার নতুন তারিখ আগামী ৩১ আগস্ট (সোমবার) নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের এই নতুন দিন ধার্য করেন।

আদালতে আসামি হিটু শেখের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শাফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে রায় পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত সোমবার মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আসামির আপিল শুনানি শেষ করে মঙ্গলবার রায় ঘোষণার কথা ছিল। তবে সকালে হাইকোর্টের বিচারকাজ শুরু হওয়ার পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত সময় চাইলে আদালত নতুন এ তারিখ ঘোষণা করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, রমজানের ছুটিতে মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ২০২৫ সালের ৫ মার্চ রাতে নির্মম ধর্ষণের শিকার হয় শিশু আছিয়া। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ তাকে ধর্ষণের পর হত্যার চেষ্টা চালান। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

এই ঘটনার পর ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে এবং ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র দাখিল করে।

মাত্র ১৩ কার্যদিবসে দ্রুততম সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৫ সালের ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে (৪৭) মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। অন্য তিন আসামি—নিহতের বোনের স্বামী সজীব শেখ, তার ছোট ভাই এবং সজীবের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়।

আইনানুযায়ী বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য ২০২৫ সালের ২১ মে মামলার পুরো নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়, যা বর্তমানে চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

মন্তব্য করুন