আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫৯ মিনিট আগে, ১০:২৫ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র গ্যাংয়ের তাণ্ডব, নিহত ৪৭ জন

হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে পাহাড়ি জনপদ কেন্সকফে সশস্ত্র গ্যাং দলের ভয়াবহ ও রাতভর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত এবং আরও ২২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা এবং বারবার প্রাণঘাতী হামলা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত কেন্সকফ এলাকায় এই বর্বরোচিত হামলা চালায় স্থানীয় শক্তিশালী গ্যাং জোটের সদস্যরা। জাতিসংঘের ইন্টিগ্রেটেড অফিস জানিয়েছে, হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন আরএনডিডিএইচ জানায়, রোববারে শুরু হওয়া এই তাণ্ডবে বেশ কিছু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়, যার মধ্যে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জ্যঁ উইলিয়াম পাপের বাড়িও রয়েছে। হামলা চলাকালে ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটে।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুলিশ স্টেশন থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের দূরত্বে এই গণহত্যা চললেও পুলিশ সুরক্ষায় এগিয়ে আসেনি। পুলিশপ্রধানের পদত্যাগ দাবি করে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাইতি সরকার এই হামলাকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে দ্রুত কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বললেও, সাধারণ মানুষ একে সরকারের চরম অবহেলা হিসেবে দেখছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে কেন্সকফে দুই মাসব্যাপী হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং ৩ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। তবে দেশটির জাতীয় পুলিশপ্রধান ভ্লাদিমির প্যারাজন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দাবি করেন, পুলিশ এখনও হাল ছেড়ে দেয়নি।

জাতিসংঘের সমর্থনে গঠিত গ্যাং দমন বাহিনী পুলিশের সাথে কাজ করলেও কেন্সকফের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে একের পর এক গ্যাং হামলার ঘটনা আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দেশটির বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন আয়োজনকে নতুন করে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।

মন্তব্য করুন