প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৫:৪৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সমর্থক, রাজনীতিক ও অন্যান্যদের অনির্দিষ্টকাল বিনাবিচারে আটকে রাখার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। একই সঙ্গে কারাগারে আটক বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে সংস্থাটি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানায় এইচআরডব্লিউ। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে শত শত ব্যক্তি এখনও কারাগারে থাকলেও অনেকের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পর্যন্ত আনা হয়নি।
সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, এক সরকারের পর আরেক সরকারের আমলেও কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মীদের আটকে রাখা হচ্ছে। সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বর্তমান সরকারের প্রথম কাজই হওয়া উচিত খেয়ালখুশিমতো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার এই চর্চা বন্ধ করা।
এইচআরডব্লিউ জানায়, গত ছয় মাসে কারাগারে অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বন্দীদের পরিবার ও আইনজীবীদের বরাতে সংস্থাটি অভিযোগ করে, আটক ব্যক্তিসমূহ পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা ও জামিন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ৮৫ বছর বয়সী সাবেক সংসদ সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন ও ৬৫ বছর বয়সী জিয়াউল হকের মৃত্যুর উদাহরণ টেনে বলা হয়, গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তাদের জামিন দেওয়া হয়নি এবং উপযুক্ত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল।
বিবৃতিতে ৮২ বছর বয়সী সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, ৮১ বছর বয়সী তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী ও কামাল আহমেদ মজুমদারের দীর্ঘমেয়াদি আটকের তথ্য তুলে ধরা হয়। বলা হয়, জামিন পেলেও নতুন নতুন মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখিয়ে মুক্তি আটকে দেওয়ার ভয়ে অনেক সময় আইনজীবীরা জামিন আবেদন করতেও সাহস পাচ্ছেন না। এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এক বছরের বেশি সময় আটকে রাখা এবং জামিন প্রত্যাখ্যাত হলে আপিলের সুযোগ না থাকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে সংস্থাটি।
এদিকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিলে প্রয়োজনীয় সংস্কার না এনে পাস করলে তা নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক রাখার অভিযোগ তদন্তে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে না বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরডব্লিউ।
মন্তব্য করুন