প্রকাশিত: ১৪ ঘন্টা আগে, ০৩:৫২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
শ্রমিকদের আইনগত পাওনা পরিশোধ না করেই কোম্পানি বিপুল মুনাফা ও লভ্যাংশ বিতরণ করছে এবং মামলা চলাকালীন অর্থ-সম্পদ ভারতে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে শ্রম আদালতে আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ঢাকার ১ম শ্রম আদালতে বিচারাধীন বিএলএ মামলা নং ৮৬৫/২০২৫-এর অংশ হিসেবে এই আবেদন দাখিল করা হয়। আবেদনে বলা হয়, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এমডি যেন আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে না পারেন।
সাবেক শ্রমিকদের অভিযোগ, ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল ও কল্যাণ তহবিলের পাওনা থেকে তারা প্রায় ১৮ বছর ধরে বঞ্চিত। ২০১৪ সালে ১৯ জন শ্রমিকের করা প্রথম মামলা উচ্চ আদালতের রিটের কারণে দীর্ঘসূত্রতায় পড়ার পর, ২০২৫ সালে আরও ৯৪ জন শ্রমিক নতুন মামলা করেন।
একটি স্বতন্ত্র চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের নিরীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত এই ৯৪ শ্রমিকের মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৪৮১ কোটি টাকা। একই সময়ে কোম্পানি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০০ শতাংশ, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩,৮৪০ শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২,০৭৫ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে বলে শ্রমিকপক্ষের দাবি।
কোম্পানির বর্তমান এমডি ভারতীয় নাগরিক এবং নিয়মিত বিদেশ সফর করেন, এই বিষয়টিও আদালতের বিবেচনার জন্য তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনকারীরা বলেছেন, তারা কারও চলাচলের স্বাভাবিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে চান না, তবে প্রায় দুই দশক ধরে চলা এই বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ও ভবিষ্যৎ রায় কার্যকর রাখার স্বার্থে সাময়িক সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এক্স-ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো অন্যায্য সুবিধা চাই না; আমরা চাই আইন অনুযায়ী আমাদের পাওনা পরিশোধ এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তি। শ্রমিকের পাওনা বছরের পর বছর অনাদায়ী রেখে বিপুল লভ্যাংশ বিতরণের বিষয়টি আদালতের যথাযথ পর্যালোচনা ও জবাবদিহির আওতায় আসা প্রয়োজন।”
ম্যারিকো বাংলাদেশের ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ভারতের ম্যারিকো লিমিটেড।
মন্তব্য করুন