প্রকাশিত: ৪ আগষ্ট, ২০২৬, ১২:২১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরে সরকারবিরোধী আন্দোলন ও নির্বাচনী সংঘাত নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে দেশটিতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার প্রবেশাধিকার। যদিও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু ব্যবহারকারী অভিযোগ তুলেছেন যে তারা আল জাজিরার ইংরেজি ওয়েবসাইটে ঢুকতে পারছেন না।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তীব্র আপত্তি। মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, আজাদ জম্মু-কাশ্মীরের (এজেকে) নির্বাচন ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে আল জাজিরা 'বাছাই করা' ভোটকেন্দ্র থেকে প্রতিবেদন তৈরি করে বাস্তবতাকে ভুলভাবে তুলে ধরেছে। এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলেছে, "নির্বাচিত সময় ও বাছাই করা ব্যক্তিদের বক্তব্য ব্যবহার করে আল জাজিরা আজাদ কাশ্মীরের নির্বাচন সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরির চেষ্টা করেছে।"
শুধু তাই নয়, সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে 'ইয়েলো জার্নালিজম'র অভিযোগও তুলেছে ইসলামাবাদ। তাদের ভাষ্যমতে, এমন প্রতিবেদন প্রকৃতপক্ষে বহিঃস্থ স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে এবং নির্বাচনের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস চালাচ্ছে।
সাংবাদিক নিখোঁজ, ইন্টারনেট বন্ধ নিয়ে সরব সিপিজে
পাকিস্তান সরকারের এই পদক্ষেপের বিপরীতে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকার সংস্থা কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সংস্থাটি পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সংবাদকর্মীদের কাজে বাধা, ইন্টারনেট-টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং সাংবাদিক হয়রানির অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সিপিজে এক বিবৃতিতে বলেছে, "ইন্টারনেট বন্ধ, যোগাযোগব্যবস্থায় বিধিনিষেধ, সংবাদ সংগ্রহে বাধা এবং সাংবাদিকদের আটক ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এসব দমন-পীড়ন বন্ধ করে স্বাধীন সাংবাদিকতার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।"
সংস্থাটির তথ্যমতে, গত ১ আগস্ট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন স্বাধীন সাংবাদিক রাজি তাহির ও তার সহকর্মী মোহাম্মদ সাইফ। অভিযোগ অনুযায়ী, ইসলামাবাদে তাদের কার্যালয় থেকে পুলিশের পোশাক পরিহিত ব্যক্তিরা তাদের তুলে নিয়ে যায়, এরপর থেকে তাদের হদিস মেলেনি। তবে কাশ্মীরি সাংবাদিক রাজা ইকরামকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিজে।
সংস্থাটি পাকিস্তান সরকারের কাছে স্পষ্ট দাবি জানিয়েছে—নিখোঁজ সাংবাদিকরা যদি রাষ্ট্রীয় হেফাজতে থাকেন, তা প্রকাশ্যে জানাতে হবে, তাদের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে এবং অন্যায়ভাবে আটক রাখা হলে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
সিপিজের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন থেকেই পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলছে আংশিক ইন্টারনেট বন্ধ এবং কঠোর টেলিযোগাযোগ বিধিনিষেধ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আল জাজিরার ওয়েবসাইট প্রবেশে সীমাবদ্ধতার অভিযোগ, যা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি।
মন্তব্য করুন