তরুণ কণ্ঠ প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে, ০৩:৫৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

‘ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ের অভিযোগ সঠিক নয়, নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ছিল: ইইউ পর্যবেক্ষক

ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন বলেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ের কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচনব্যবস্থার উন্নয়নে ১৯টি সুপারিশ উপস্থাপন করেছে মিশনটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ বলেছে। তারা মনে করে, নির্বাচন কমিশনের কার্যকর ভূমিকায় ভোটগ্রহণ স্বচ্ছ হয়েছে। তবে আগামী নির্বাচন আরও বেশি প্রতিযোগিতাপূর্ণ করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ বাড়ানো, নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মিশন প্রধান ইভার্স ইজাবস এদিন চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বলেন,
“গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ছিল। এতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যে অভিযোগ, তা সঠিক নয়। ইসির কার্যকর ভূমিকায় সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছ ছিল। আমরা আমাদের কাজ আন্তর্জালিক নিয়ম মেনেই করেছি।”

তিনি আরও বলেন,
“ভোটের কাস্টিং খুব ভালো। পোস্টাল ব্যালটের বিষয়টিও প্রশংসনীয়। আগামী সংসদ নির্বাচন আরও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হবে বলে আশা করি।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই পর্যবেক্ষণ মিশন গত বছরের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। নির্বাচনের দিন ইইউর সব সদস্য রাষ্ট্র ও কানাডা, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড থেকে আগত মোট ২২৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দেশের ৬৪ জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ৫৬ জন এবং স্বল্পমেয়াদি ছিলেন ৯০ জন।

প্রতিবেদনে ইইউ বাংলাদেশের নির্বাচনব্যবস্থার জন্য ১৯টি সুপারিশ দিয়েছে, যার মধ্যে ছয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—ডিজিটাল মাধ্যমে নারী হেনস্তা রোধ, এক-তৃতীয়াংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাবনির্ভর অডিট ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভোটকেন্দ্রে সুবিধা বাড়ানো।

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলে আসে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলেছিল কিছু রাজনৈতিক দল। ইইউর প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল ১৪ ফেব্রুয়ারি। আজকের এ চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তারা নিজেদের পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করল।

মন্তব্য করুন